Dhaka 12:25 am, Tuesday, 21 April 2026

যুদ্ধবিরতিতে সম্মত পাকিস্তান-আফগানিস্তান

  • Reporter Name
  • Update Time : 02:18:16 am, Sunday, 19 October 2025
  • 110 Time View

দোহায় আলোচনার পর আফগানিস্তান ও পাকিস্তান তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে বলে রবিবার সকালে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গত এক সপ্তাহের ভয়াবহ সীমান্ত সংঘর্ষের পর এই যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলো।

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, শনিবার কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত আলোচনায় দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে। একই সঙ্গে তারা যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব ও কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পরবর্তী বৈঠক করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

এর আগে শনিবার দোহায় শান্তি আলোচনা শুরু হয়। সীমান্তে সহিংস সংঘর্ষে বহু নিহত ও শতাধিক আহত হওয়ার পর শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খুঁজতে এই আলোচনা শুরু করে দুই দেশ। ২০২১ সালে তালেবান কাবুল দখলের পর এটাই আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘর্ষ।

আফগান সরকারের মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেন, “ঘোষণা অনুযায়ী আজ দোহায় পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।” তিনি জানান, প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোল্লা মুহাম্মদ ইয়াকুবের নেতৃত্বে আফগান প্রতিনিধি দল দোহায় পৌঁছেছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন। বিবৃতিতে বলা হয়, “আলোচনার মূল লক্ষ্য সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং আফগান ভূখণ্ড থেকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পরিচালিত সন্ত্রাসী কার্যক্রমের অবসান ঘটানো।”

গত সপ্তাহে ২ হাজার ৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ বিতর্কিত সীমান্তে ভয়াবহ সংঘর্ষ ও পাকিস্তানি বিমান হামলার সূত্রপাত হয়, যখন ইসলামাবাদ অভিযোগ তোলে যে আফগানিস্তান থেকে পরিচালিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে।

তবে তালেবান এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, পাকিস্তান মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে এবং আফগানিস্তানের অস্থিতিশীলতা বাড়াতে ইসলামিক স্টেট-সম্পৃক্ত গোষ্ঠীগুলোকে আশ্রয় দিচ্ছে। ইসলামাবাদ এই অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেছে।

বছরের পর বছর ধরে পাকিস্তানি জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো দেশটির সরকার উৎখাত করে কঠোর ইসলামি শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যুদ্ধ চালিয়ে আসছে। গত শুক্রবার সীমান্তের কাছে এক আত্মঘাতী হামলায় সাতজন পাকিস্তানি সেনা নিহত ও ১৩ জন আহত হন।

পরদিন শনিবার ক্যাডেটদের এক সমাবর্তনে পাকিস্তান সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির বলেন, “আফগান প্রশাসনকে অবশ্যই তাদের প্রক্সিদের নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে, যারা আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে পাকিস্তানে নৃশংস হামলা চালাচ্ছে।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

সর্বাধিক পঠিত

যুদ্ধবিরতিতে সম্মত পাকিস্তান-আফগানিস্তান

Update Time : 02:18:16 am, Sunday, 19 October 2025

দোহায় আলোচনার পর আফগানিস্তান ও পাকিস্তান তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে বলে রবিবার সকালে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গত এক সপ্তাহের ভয়াবহ সীমান্ত সংঘর্ষের পর এই যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলো।

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, শনিবার কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত আলোচনায় দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে। একই সঙ্গে তারা যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব ও কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পরবর্তী বৈঠক করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

এর আগে শনিবার দোহায় শান্তি আলোচনা শুরু হয়। সীমান্তে সহিংস সংঘর্ষে বহু নিহত ও শতাধিক আহত হওয়ার পর শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খুঁজতে এই আলোচনা শুরু করে দুই দেশ। ২০২১ সালে তালেবান কাবুল দখলের পর এটাই আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘর্ষ।

আফগান সরকারের মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেন, “ঘোষণা অনুযায়ী আজ দোহায় পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।” তিনি জানান, প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোল্লা মুহাম্মদ ইয়াকুবের নেতৃত্বে আফগান প্রতিনিধি দল দোহায় পৌঁছেছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন। বিবৃতিতে বলা হয়, “আলোচনার মূল লক্ষ্য সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং আফগান ভূখণ্ড থেকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পরিচালিত সন্ত্রাসী কার্যক্রমের অবসান ঘটানো।”

গত সপ্তাহে ২ হাজার ৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ বিতর্কিত সীমান্তে ভয়াবহ সংঘর্ষ ও পাকিস্তানি বিমান হামলার সূত্রপাত হয়, যখন ইসলামাবাদ অভিযোগ তোলে যে আফগানিস্তান থেকে পরিচালিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে।

তবে তালেবান এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, পাকিস্তান মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে এবং আফগানিস্তানের অস্থিতিশীলতা বাড়াতে ইসলামিক স্টেট-সম্পৃক্ত গোষ্ঠীগুলোকে আশ্রয় দিচ্ছে। ইসলামাবাদ এই অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেছে।

বছরের পর বছর ধরে পাকিস্তানি জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো দেশটির সরকার উৎখাত করে কঠোর ইসলামি শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যুদ্ধ চালিয়ে আসছে। গত শুক্রবার সীমান্তের কাছে এক আত্মঘাতী হামলায় সাতজন পাকিস্তানি সেনা নিহত ও ১৩ জন আহত হন।

পরদিন শনিবার ক্যাডেটদের এক সমাবর্তনে পাকিস্তান সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির বলেন, “আফগান প্রশাসনকে অবশ্যই তাদের প্রক্সিদের নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে, যারা আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে পাকিস্তানে নৃশংস হামলা চালাচ্ছে।”