Dhaka 2:14 am, Tuesday, 21 April 2026

বিএনপি অক্টোবরেই আন্দোলনের পরিণতি দেখতে চায়

  • Reporter Name
  • Update Time : 05:21:13 am, Tuesday, 5 September 2023
  • 227 Time View

দশ সংসদ নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার আগেই চলমান একদফার আন্দোলন সফল পরিণতিতে নিয়ে যেতে চায় বিএনপি। মধ্য অক্টোবরের মধ্যেই চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জন করতে চান তারা।

অক্টোবরের মধ্যেই চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জন করতে চান তারা। সেজন্য অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ থেকে ঘেরাওসহ লাগাতার কর্মসূচি দেওয়ার পক্ষে দলের ভাইস চেয়ারম্যান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং যুগ্ম মহাসচিবরা। গত রোববার রাতে ঢাকার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে বৈঠকে এমন প্রস্তাব দিয়েছেন তারা। তাদের মতে, তপশিল ঘোষণা হয়ে গেলে নির্বাচন ঠেকানো কঠিন হয়ে যাবে। তাই তপশিল ঘোষণা পর্যন্ত আন্দোলন টেনে নেওয়া যাবে না। বৈঠকে দলীয় হাইকমান্ডের পক্ষ থেকে এ নেতাদের বক্তব্য শোনা হয়। স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনার পর কর্মসূচি চূড়ান্ত হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা যায়, গত ২৮ আগস্ট বিএনপির স্থায়ী কমিটির সর্বশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে চলমান একদফার আন্দোলনের কর্মকৌশল ঠিক করতে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের মতামত নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এর অংশ হিসেবে গত রোববার রাতে দলের ভাইস চেয়ারম্যান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং যুগ্ম মহাসচিবদের মতামত নেওয়া হয়। ওই বৈঠকে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ ছাড়া সেখানে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য জমির উদ্দিন সরকার, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খানও উপস্থিত ছিলেন। তাদের সঙ্গে ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক এবং যুবদলের সভাপতি ও ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতিও।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, আগামী জাতীয় নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার আগে এবং অক্টোবরের মাঝামাঝি একদফার চলমান আন্দোলন সফল পরিণতির রূপ দেওয়ার জন্য বেশিরভাগ নেতা মতামত দেন। তারা ঘেরাওয়ের ওপর গুরুত্ব দেন। এ ছাড়া দলের মধ্যে সুদৃঢ় ঐক্য নিশ্চিত এবং রাজধানী ঢাকা ও তার আশপাশের জেলাগুলোকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করতে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন। বৈঠকে হাইকমান্ডের পক্ষ থেকেও আন্দোলন সফলে কড়া নির্দেশনা দিয়ে প্রস্তুতি গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। আরও বলা হয়েছে, সামনের আন্দোলনে আর কোনো ভুল করার সুযোগ নেই। এখন থেকে সমন্বিতভাবে ঘোষিত কর্মসূচি পালন করতে হবে।

বৈঠক প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসনের একজন উপদেষ্টা বলেন, বৈঠকে থানা, আদালত, সচিবালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ঘেরাওয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান কালবেলাকে বলেন, ‘বিএনপির চূড়ান্ত টার্গেট হচ্ছে দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা। বিএনপি সেই লক্ষ্য নিয়ে অবিচলভাবে সামনে অগ্রসর হচ্ছে। সরকারের তরফ থেকে বিএনপির আন্দোলন ভুলপথে পরিচালিত করার চরম উসকানি রয়েছে। তারা একদিকে বিরোধী দলের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে সন্ত্রাসী তকমা দিয়ে বহির্বিশ্বের কাছে ভুল বার্তা দিতে চায়, অন্যদিকে নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হামলা-মামলা চালিয়ে আন্দোলন দমাতে চায়। তারা ভেবেছে, অতীতের মতো এবারও এ ধরনের কূটকৌশল কাজে আসবে। আসলে তারা চরম ভ্রান্তির মধ্যে রয়েছে। তিনি বলেন, বিএনপি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি নিয়ে রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। টার্গেটে না পৌঁছা পর্যন্ত এ আন্দোলন চলবে।’

আগামী জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে এরই মধ্যে আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংবিধানে জাতীয় সংসদের মেয়াদ পূর্তির আগের ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা আছে। আগামী বছরের ২৯ জানুয়ারি চলতি একাদশ জাতীয় সংসদের পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ হবে। তার আগের ৯০ দিনের মধ্যে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন করতে হবে। সেই হিসাবে ১ নভেম্বর থেকে ২৯ জানুয়ারির মধ্যে এ নির্বাচন করতে হবে।

বিএনপি নেতারা বলছেন, তাদের সিদ্ধান্ত হচ্ছে, আন্দোলনে দাবি আদায় করেই আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে তারা। আর সরকার যদি এ দাবি উপেক্ষা করে একতরফা নির্বাচনের উদ্যোগ নেয়, বিএনপি তা প্রতিহত করবে এবং সেই নির্বাচনে অংশ নেবে না।

সরকারের পদত্যাগ ও নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে গত ১২ জুলাই থেকে একদফার যুগপৎ আন্দোলন শুরু করে বিএনপি। সর্বশেষ গত ২৫ ও ২৬ আগস্ট ঢাকাসহ দেশব্যাপী কালোপতাকা গণমিছিলের কর্মসূচি পালিত হয়। এরপর ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচির কারণে যুগপৎ আন্দোলনে সাময়িক বিরতি ঘটে। দলটির খসড়া আন্দোলন পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী শুক্রবার থেকে ফের মাঠে গড়াতে পারে একদফার যুগপৎ আন্দোলন।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, আগামী তিন সপ্তাহ প্রতি শুক্র ও শনিবার মানববন্ধন, পদযাত্রা, গণমিছিল ও সমাবেশের মতো কর্মসূচি আসতে পারে। এ কর্মসূচি হতে পারে যৌথভাবে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে। আর সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে গিয়ে কর্মসূচির ধরনে আসতে পারে পরিবর্তন। সেই সময় ঢাকায় ফের মহাসমাবেশ, গণসমাবেশ বা বড় ধরনের কর্মসূচির চিন্তা রয়েছে হাইকমান্ডের। এর মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত আন্দোলনের ‘শেষ ধাপ’ শুরু হবে। তখন কর্মসূচি হবে ফের ঢাকাকেন্দ্রিক। বিচারালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি দিয়ে শেষ ধাপের সেই আন্দোলন শুরু হবে। এরপর ধারাবাহিকভাবে নির্বাচন কমিশন, গণভবন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, সচিবালয়ের মতো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ঘেরাওয়ের কর্মসূচি আসবে। সঙ্গে টানা অবস্থানের কর্মসূচি দেওয়ারও চিন্তা রয়েছে দলটির হাইকমান্ডের।

যুগপৎ আন্দোলনের শরিক গণতন্ত্র মঞ্চের সমন্বয়ক ও ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু কালবেলাকে বলেন, ‘শিগগিরই নতুন কর্মসূচি দিয়ে একদফার আন্দোলন মাঠে গড়াবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত যা চলমান থাকবে।’

গণতন্ত্র মঞ্চের আরেক নেতা ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘নতুন কর্মসূচি প্রণয়ন ও আন্দোলন কৌশল নিয়ে দু-এক দিনের মধ্যে আমরা বিএনপির সঙ্গে বসব। অল্পদিনের মধ্যেই আবার যুগপতের কর্মসূচি নিয়ে রাজপথে হাজির হতে পারব। আশা করছি, এবারের আন্দোলনে মাঝখানে আর বড় ধরনের বিরতি থাকবে না। শান্তিপূর্ণভাবে ধারাবাহিক ও টানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আমরা আন্দোলনকে সফল পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে পারব।’

জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের সমন্বয়ক ও এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ বলেন, ‘একদফা দাবি আদায়ে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি নিয়ে আমরা রাজপথে আছি। আগামীতেও জনসম্পৃক্ত শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা এ সরকারকে বিদায় করে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি আদায় করব।’

About Author Information

সর্বাধিক পঠিত

বিএনপি অক্টোবরেই আন্দোলনের পরিণতি দেখতে চায়

Update Time : 05:21:13 am, Tuesday, 5 September 2023

দশ সংসদ নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার আগেই চলমান একদফার আন্দোলন সফল পরিণতিতে নিয়ে যেতে চায় বিএনপি। মধ্য অক্টোবরের মধ্যেই চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জন করতে চান তারা।

অক্টোবরের মধ্যেই চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জন করতে চান তারা। সেজন্য অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ থেকে ঘেরাওসহ লাগাতার কর্মসূচি দেওয়ার পক্ষে দলের ভাইস চেয়ারম্যান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং যুগ্ম মহাসচিবরা। গত রোববার রাতে ঢাকার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে বৈঠকে এমন প্রস্তাব দিয়েছেন তারা। তাদের মতে, তপশিল ঘোষণা হয়ে গেলে নির্বাচন ঠেকানো কঠিন হয়ে যাবে। তাই তপশিল ঘোষণা পর্যন্ত আন্দোলন টেনে নেওয়া যাবে না। বৈঠকে দলীয় হাইকমান্ডের পক্ষ থেকে এ নেতাদের বক্তব্য শোনা হয়। স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনার পর কর্মসূচি চূড়ান্ত হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা যায়, গত ২৮ আগস্ট বিএনপির স্থায়ী কমিটির সর্বশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে চলমান একদফার আন্দোলনের কর্মকৌশল ঠিক করতে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের মতামত নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এর অংশ হিসেবে গত রোববার রাতে দলের ভাইস চেয়ারম্যান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং যুগ্ম মহাসচিবদের মতামত নেওয়া হয়। ওই বৈঠকে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ ছাড়া সেখানে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য জমির উদ্দিন সরকার, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খানও উপস্থিত ছিলেন। তাদের সঙ্গে ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক এবং যুবদলের সভাপতি ও ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতিও।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, আগামী জাতীয় নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার আগে এবং অক্টোবরের মাঝামাঝি একদফার চলমান আন্দোলন সফল পরিণতির রূপ দেওয়ার জন্য বেশিরভাগ নেতা মতামত দেন। তারা ঘেরাওয়ের ওপর গুরুত্ব দেন। এ ছাড়া দলের মধ্যে সুদৃঢ় ঐক্য নিশ্চিত এবং রাজধানী ঢাকা ও তার আশপাশের জেলাগুলোকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করতে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন। বৈঠকে হাইকমান্ডের পক্ষ থেকেও আন্দোলন সফলে কড়া নির্দেশনা দিয়ে প্রস্তুতি গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। আরও বলা হয়েছে, সামনের আন্দোলনে আর কোনো ভুল করার সুযোগ নেই। এখন থেকে সমন্বিতভাবে ঘোষিত কর্মসূচি পালন করতে হবে।

বৈঠক প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসনের একজন উপদেষ্টা বলেন, বৈঠকে থানা, আদালত, সচিবালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ঘেরাওয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান কালবেলাকে বলেন, ‘বিএনপির চূড়ান্ত টার্গেট হচ্ছে দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা। বিএনপি সেই লক্ষ্য নিয়ে অবিচলভাবে সামনে অগ্রসর হচ্ছে। সরকারের তরফ থেকে বিএনপির আন্দোলন ভুলপথে পরিচালিত করার চরম উসকানি রয়েছে। তারা একদিকে বিরোধী দলের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে সন্ত্রাসী তকমা দিয়ে বহির্বিশ্বের কাছে ভুল বার্তা দিতে চায়, অন্যদিকে নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হামলা-মামলা চালিয়ে আন্দোলন দমাতে চায়। তারা ভেবেছে, অতীতের মতো এবারও এ ধরনের কূটকৌশল কাজে আসবে। আসলে তারা চরম ভ্রান্তির মধ্যে রয়েছে। তিনি বলেন, বিএনপি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি নিয়ে রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। টার্গেটে না পৌঁছা পর্যন্ত এ আন্দোলন চলবে।’

আগামী জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে এরই মধ্যে আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংবিধানে জাতীয় সংসদের মেয়াদ পূর্তির আগের ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা আছে। আগামী বছরের ২৯ জানুয়ারি চলতি একাদশ জাতীয় সংসদের পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ হবে। তার আগের ৯০ দিনের মধ্যে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন করতে হবে। সেই হিসাবে ১ নভেম্বর থেকে ২৯ জানুয়ারির মধ্যে এ নির্বাচন করতে হবে।

বিএনপি নেতারা বলছেন, তাদের সিদ্ধান্ত হচ্ছে, আন্দোলনে দাবি আদায় করেই আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে তারা। আর সরকার যদি এ দাবি উপেক্ষা করে একতরফা নির্বাচনের উদ্যোগ নেয়, বিএনপি তা প্রতিহত করবে এবং সেই নির্বাচনে অংশ নেবে না।

সরকারের পদত্যাগ ও নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে গত ১২ জুলাই থেকে একদফার যুগপৎ আন্দোলন শুরু করে বিএনপি। সর্বশেষ গত ২৫ ও ২৬ আগস্ট ঢাকাসহ দেশব্যাপী কালোপতাকা গণমিছিলের কর্মসূচি পালিত হয়। এরপর ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচির কারণে যুগপৎ আন্দোলনে সাময়িক বিরতি ঘটে। দলটির খসড়া আন্দোলন পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী শুক্রবার থেকে ফের মাঠে গড়াতে পারে একদফার যুগপৎ আন্দোলন।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, আগামী তিন সপ্তাহ প্রতি শুক্র ও শনিবার মানববন্ধন, পদযাত্রা, গণমিছিল ও সমাবেশের মতো কর্মসূচি আসতে পারে। এ কর্মসূচি হতে পারে যৌথভাবে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে। আর সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে গিয়ে কর্মসূচির ধরনে আসতে পারে পরিবর্তন। সেই সময় ঢাকায় ফের মহাসমাবেশ, গণসমাবেশ বা বড় ধরনের কর্মসূচির চিন্তা রয়েছে হাইকমান্ডের। এর মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত আন্দোলনের ‘শেষ ধাপ’ শুরু হবে। তখন কর্মসূচি হবে ফের ঢাকাকেন্দ্রিক। বিচারালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি দিয়ে শেষ ধাপের সেই আন্দোলন শুরু হবে। এরপর ধারাবাহিকভাবে নির্বাচন কমিশন, গণভবন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, সচিবালয়ের মতো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ঘেরাওয়ের কর্মসূচি আসবে। সঙ্গে টানা অবস্থানের কর্মসূচি দেওয়ারও চিন্তা রয়েছে দলটির হাইকমান্ডের।

যুগপৎ আন্দোলনের শরিক গণতন্ত্র মঞ্চের সমন্বয়ক ও ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু কালবেলাকে বলেন, ‘শিগগিরই নতুন কর্মসূচি দিয়ে একদফার আন্দোলন মাঠে গড়াবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত যা চলমান থাকবে।’

গণতন্ত্র মঞ্চের আরেক নেতা ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘নতুন কর্মসূচি প্রণয়ন ও আন্দোলন কৌশল নিয়ে দু-এক দিনের মধ্যে আমরা বিএনপির সঙ্গে বসব। অল্পদিনের মধ্যেই আবার যুগপতের কর্মসূচি নিয়ে রাজপথে হাজির হতে পারব। আশা করছি, এবারের আন্দোলনে মাঝখানে আর বড় ধরনের বিরতি থাকবে না। শান্তিপূর্ণভাবে ধারাবাহিক ও টানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আমরা আন্দোলনকে সফল পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে পারব।’

জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের সমন্বয়ক ও এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ বলেন, ‘একদফা দাবি আদায়ে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি নিয়ে আমরা রাজপথে আছি। আগামীতেও জনসম্পৃক্ত শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা এ সরকারকে বিদায় করে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি আদায় করব।’