Dhaka 1:22 am, Wednesday, 22 April 2026

বন্ধ হচ্ছে একের পর এক সিনেমা হল

  • Reporter Name
  • Update Time : 12:04:42 pm, Saturday, 20 September 2025
  • 207 Time View

গত কয়েক বছর ধরেই ঈদকেন্দ্রিক হয়ে গেছে সিনেমা। বড় বাজেট ও তারকাদের সিনেমার বেশির ভাগই মুক্তি পায় ঈদে। সে সময় দেশের সিনেপ্লেক্স ও সিঙ্গেল স্ক্রিনগুলোতে দর্শক ভিড় করে। কিন্তু দুই ঈদ উৎসবের বাইরের অবস্থা খুবই নাজুক। প্রতি মাসেই লোকসান গুনতে হচ্ছে হলগুলোকে। ভালো ছবি মুক্তির অভাবেই এবার একের পর এক সিনেমা হল বন্ধের ঘোষণা আসছে। ঈদের সিনেমা চালানোর পর থেকেই সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে ঢাকার ঐতিহ্যবাহী সিনেমা হল মধুমিতা। আর এবার দেশের তিন তিনটি বড় হল একেবারে বন্ধের ঘোষণা এসেছে। মাসের পর মাস লোকসান গোনার কারণেই মণিহার, মধুবন ও লায়ন সিনেমাস বন্ধ হচ্ছে। যা চলচ্চিত্রের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব হলে যে ছবি মুক্তি পাচ্ছে তাতে দর্শক একদমই নেই। যার ফলে প্রতি মাসে ব্যাপক লোকসান গুনতে হচ্ছে হল মালিকদের। বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম সিনেমা হল ‘মণিহার’। চার দশক আগে ঐতিহ্যবাহী এ হলটির যাত্রা শুরু। এবার হলটি ভেঙে ফেলার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। মূলত ক্রমাগত লোকসানের কারণেই মালিকপক্ষের এমন সিদ্ধান্ত।
মণিহার সিনেমা হলের ব্যবস্থাপক ফারুক আহমেদ মানবজমিনকে বলেন, হল মালিকরা দীর্ঘদিন ধরেই লোকসানের ফলে এটি ভাঙার পরিকল্পনা করছিলেন। আমরা বলে এতদিন আটকে রেখেছি। কিন্তু এখন বিকল্প ভাবা যাচ্ছে না। এ মাসের পরই হয়তো মালিকপক্ষ ভেঙে ফেলবেন হলটি। এটি আগে সিঙ্গেল স্ক্রিন ছিল। পরে মাল্টিপ্লেক্স করা হয়।

কিন্তু ঈদের বাইরে উল্লেখযোগ্য সিনেমাই নেই, হল এভাবে বাঁচবে কীভাবে? এদিকে ঢাকার বাইরে দেশের অন্যতম সিনেমা হল হলো বগুড়ার মধুবন সিনেপ্লেক্স। ২০২১ সালে সিনেপ্লেক্সটি চালু করা হয়। কিন্তু ব্যাপক লোকসানের ফলে আক্ষেপ নিয়েই বন্ধ করে দিতে হচ্ছে হলটি। এ বিষয়ে মধুবন সিনেপ্লেক্সের কর্ণধার রোকনুজ্জামান ইউনূস বলেন, মাসের পর মাস লস দিতে হচ্ছে। তাই এটি একেবারে বন্ধ করে দিয়েছি শুক্রবার থেকে। এ সপ্তাহে ‘নন্দিনী’ ছবি চালাচ্ছিলাম। এসব ছবি চালিয়ে খরচও তোলা সম্ভব হয় না। মাসে কর্মচারীদের বেতন, বিল এগুলো কোথা থেকে দেবো? এদিকে ঢাকার কেরানীগঞ্জের আরেক আধুনিক হল লায়ন সিনেমাসের অবস্থাও একই। ২০২২ সাল থেকে এর যাত্রা শুরু হয়। কিন্তু শুধুমাত্র ঈদকেন্দ্রিক সিনেমা দিয়ে এই হলেরও টিকে থাকা সম্ভব হচ্ছে না। লায়ন সিনেমাসের কর্ণধার মির্জা আবদুল খালেক মানবজমিনকে বলেন, খুব কষ্টের সঙ্গেই বলতে হচ্ছে লায়ন সিনেমাস বন্ধ করে দিতে হচ্ছে। কারণ দেয়ালে পিঠ ঠেকেছে আগেই। লস দিয়ে অনেক টেনেছি আমরা। আশায় ছিলাম হয়তো পরিস্থিতির উন্নতি হবে। কিন্তু সেটা বোধ হয় হওয়ার নয়। তিনি আরও বলেন, হলটি ব্যাংক লোন নিয়ে করা। যার ফলে আরও বেশি বিপাকে পড়েছি। ঈদকেন্দ্রিক সিনেমা দিয়ে তো সারা বছর টিকে থাকা সম্ভব না। আমার মনে হয় শুধু আমরা নই, আরও অনেকেই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেবেন সামনে। এদিকে, খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকার বাইরের আরও বেশ কিছু সিনেমা হল এরইমধ্যে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। মূলত গত কোরবানির ঈদের সিনেমা চালানোর পর এখন পর্যন্ত এসব হল বন্ধ রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

সর্বাধিক পঠিত

বন্ধ হচ্ছে একের পর এক সিনেমা হল

Update Time : 12:04:42 pm, Saturday, 20 September 2025

গত কয়েক বছর ধরেই ঈদকেন্দ্রিক হয়ে গেছে সিনেমা। বড় বাজেট ও তারকাদের সিনেমার বেশির ভাগই মুক্তি পায় ঈদে। সে সময় দেশের সিনেপ্লেক্স ও সিঙ্গেল স্ক্রিনগুলোতে দর্শক ভিড় করে। কিন্তু দুই ঈদ উৎসবের বাইরের অবস্থা খুবই নাজুক। প্রতি মাসেই লোকসান গুনতে হচ্ছে হলগুলোকে। ভালো ছবি মুক্তির অভাবেই এবার একের পর এক সিনেমা হল বন্ধের ঘোষণা আসছে। ঈদের সিনেমা চালানোর পর থেকেই সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে ঢাকার ঐতিহ্যবাহী সিনেমা হল মধুমিতা। আর এবার দেশের তিন তিনটি বড় হল একেবারে বন্ধের ঘোষণা এসেছে। মাসের পর মাস লোকসান গোনার কারণেই মণিহার, মধুবন ও লায়ন সিনেমাস বন্ধ হচ্ছে। যা চলচ্চিত্রের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব হলে যে ছবি মুক্তি পাচ্ছে তাতে দর্শক একদমই নেই। যার ফলে প্রতি মাসে ব্যাপক লোকসান গুনতে হচ্ছে হল মালিকদের। বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম সিনেমা হল ‘মণিহার’। চার দশক আগে ঐতিহ্যবাহী এ হলটির যাত্রা শুরু। এবার হলটি ভেঙে ফেলার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। মূলত ক্রমাগত লোকসানের কারণেই মালিকপক্ষের এমন সিদ্ধান্ত।
মণিহার সিনেমা হলের ব্যবস্থাপক ফারুক আহমেদ মানবজমিনকে বলেন, হল মালিকরা দীর্ঘদিন ধরেই লোকসানের ফলে এটি ভাঙার পরিকল্পনা করছিলেন। আমরা বলে এতদিন আটকে রেখেছি। কিন্তু এখন বিকল্প ভাবা যাচ্ছে না। এ মাসের পরই হয়তো মালিকপক্ষ ভেঙে ফেলবেন হলটি। এটি আগে সিঙ্গেল স্ক্রিন ছিল। পরে মাল্টিপ্লেক্স করা হয়।

কিন্তু ঈদের বাইরে উল্লেখযোগ্য সিনেমাই নেই, হল এভাবে বাঁচবে কীভাবে? এদিকে ঢাকার বাইরে দেশের অন্যতম সিনেমা হল হলো বগুড়ার মধুবন সিনেপ্লেক্স। ২০২১ সালে সিনেপ্লেক্সটি চালু করা হয়। কিন্তু ব্যাপক লোকসানের ফলে আক্ষেপ নিয়েই বন্ধ করে দিতে হচ্ছে হলটি। এ বিষয়ে মধুবন সিনেপ্লেক্সের কর্ণধার রোকনুজ্জামান ইউনূস বলেন, মাসের পর মাস লস দিতে হচ্ছে। তাই এটি একেবারে বন্ধ করে দিয়েছি শুক্রবার থেকে। এ সপ্তাহে ‘নন্দিনী’ ছবি চালাচ্ছিলাম। এসব ছবি চালিয়ে খরচও তোলা সম্ভব হয় না। মাসে কর্মচারীদের বেতন, বিল এগুলো কোথা থেকে দেবো? এদিকে ঢাকার কেরানীগঞ্জের আরেক আধুনিক হল লায়ন সিনেমাসের অবস্থাও একই। ২০২২ সাল থেকে এর যাত্রা শুরু হয়। কিন্তু শুধুমাত্র ঈদকেন্দ্রিক সিনেমা দিয়ে এই হলেরও টিকে থাকা সম্ভব হচ্ছে না। লায়ন সিনেমাসের কর্ণধার মির্জা আবদুল খালেক মানবজমিনকে বলেন, খুব কষ্টের সঙ্গেই বলতে হচ্ছে লায়ন সিনেমাস বন্ধ করে দিতে হচ্ছে। কারণ দেয়ালে পিঠ ঠেকেছে আগেই। লস দিয়ে অনেক টেনেছি আমরা। আশায় ছিলাম হয়তো পরিস্থিতির উন্নতি হবে। কিন্তু সেটা বোধ হয় হওয়ার নয়। তিনি আরও বলেন, হলটি ব্যাংক লোন নিয়ে করা। যার ফলে আরও বেশি বিপাকে পড়েছি। ঈদকেন্দ্রিক সিনেমা দিয়ে তো সারা বছর টিকে থাকা সম্ভব না। আমার মনে হয় শুধু আমরা নই, আরও অনেকেই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেবেন সামনে। এদিকে, খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকার বাইরের আরও বেশ কিছু সিনেমা হল এরইমধ্যে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। মূলত গত কোরবানির ঈদের সিনেমা চালানোর পর এখন পর্যন্ত এসব হল বন্ধ রয়েছে।