Dhaka 6:53 pm, Tuesday, 21 April 2026

আমেরিকা পৌঁছালো পাকিস্তানি বিরল খনিজের প্রথম চালান

  • Reporter Name
  • Update Time : 03:18:15 pm, Monday, 6 October 2025
  • 76 Time View

পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারত্ব হিসেবে প্রথমবারের মতো বিরল খনিজের একটি চালান যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির খবরে এই দাবি করা হয়।

পাকিস্তানের দৈনিক ডনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইউএস স্ট্র্যাটেজিক মেটালস সেপ্টেম্বর মাসে পাকিস্তানের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে। সেই চুক্তির আওতাতেই এবার প্রথম খনিজ নমুনা যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটি পাকিস্তানে প্রায় ৫০ কোটি ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে। পাকিস্তানের খনিজ প্রক্রিয়াজাতকরণ ও উন্নয়ন সুবিধা স্থাপনের কাজে এই অর্থ ব্যবহৃত হবে।

ওয়াশিংটনে অবস্থিত সূত্রগুলো ডনকে জানিয়েছে, এই চালান পাকিস্তানের জন্য বৈশ্বিক ক্রিটিক্যাল মিনারেলস সাপ্লাই চেইনের অন্তর্ভুক্তির এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। বর্তমানে শিল্পোন্নয়ন ও জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এই খনিজগুলোর গুরুত্ব দ্রুত বাড়ছে।

এই প্রথম চালানে অ্যান্টিমনি, কপার কনসেনট্রেট এবং বিরল পৃথিবী উপাদান যেমন নিওডিমিয়াম ও প্রাসিওডিমিয়াম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। চালানটি পাকিস্তানের ফ্রন্টিয়ার ওয়ার্কস অর্গানাইজেশনের সহযোগিতায় প্রস্তুত করা হয়।

ইউএসএসএম-এর প্রধান নির্বাহী স্টেসি ডব্লিউ হেস্টি এক বিবৃতিতে বলেন, এই প্রথম চালান পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতার এক নতুন অধ্যায় সূচিত করল। এটি শুধু বাণিজ্য নয়, দুই দেশের বন্ধুত্বও গভীর করবে।
তিনি আরও যোগ করেন সমঝোতা চুক্তির আলোকে অনুসন্ধান থেকে শুরু করে প্রক্রিয়াজাতকরণ ও পাকিস্তানে রিফাইনারি স্থাপনসহ পুরো খনিজ মূল্য শৃঙ্খলায় সহযোগিতার রূপরেখা তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তি পাকিস্তানের জন্য এক বড় অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। দেশের অব্যবহৃত খনিজ সম্পদের মূল্য প্রায় ৬ ট্রিলিয়ন ডলার হিসেবে ধরা হয়। যা পাকিস্তানকে বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ খনিজভাণ্ডারসমৃদ্ধ দেশে পরিণত করতে পারে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এই অংশীদারত্বের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালের বিকল্প উৎস তৈরি হবে। যা বৈশ্বিক বাজারে প্রভাবশালী সরবরাহকারীদের ওপর নির্ভরতা কমাবে।

তবে বিষয়টি নিয়ে বিরোধী দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ তীব্র আপত্তি জানিয়েছে। দলের তথ্য সম্পাদক শেখ ওয়াক্কাস আকরাম সরকারকে গোপন চুক্তির পুরো বিবরণ প্রকাশের দাবি জানান। তিনি বলেন,ওয়াশিংটনের সঙ্গে এমন গোপন, একতরফা চুক্তি দেশের স্থিতিশীলতা আরও বিপজ্জনক করে তুলবে। সরকারকে অবশ্যই সংসদ ও জনগণের সামনে এসব চুক্তির পূর্ণ বিবরণ প্রকাশ করতে হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

সর্বাধিক পঠিত

আমেরিকা পৌঁছালো পাকিস্তানি বিরল খনিজের প্রথম চালান

Update Time : 03:18:15 pm, Monday, 6 October 2025

পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারত্ব হিসেবে প্রথমবারের মতো বিরল খনিজের একটি চালান যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির খবরে এই দাবি করা হয়।

পাকিস্তানের দৈনিক ডনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইউএস স্ট্র্যাটেজিক মেটালস সেপ্টেম্বর মাসে পাকিস্তানের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে। সেই চুক্তির আওতাতেই এবার প্রথম খনিজ নমুনা যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটি পাকিস্তানে প্রায় ৫০ কোটি ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে। পাকিস্তানের খনিজ প্রক্রিয়াজাতকরণ ও উন্নয়ন সুবিধা স্থাপনের কাজে এই অর্থ ব্যবহৃত হবে।

ওয়াশিংটনে অবস্থিত সূত্রগুলো ডনকে জানিয়েছে, এই চালান পাকিস্তানের জন্য বৈশ্বিক ক্রিটিক্যাল মিনারেলস সাপ্লাই চেইনের অন্তর্ভুক্তির এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। বর্তমানে শিল্পোন্নয়ন ও জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এই খনিজগুলোর গুরুত্ব দ্রুত বাড়ছে।

এই প্রথম চালানে অ্যান্টিমনি, কপার কনসেনট্রেট এবং বিরল পৃথিবী উপাদান যেমন নিওডিমিয়াম ও প্রাসিওডিমিয়াম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। চালানটি পাকিস্তানের ফ্রন্টিয়ার ওয়ার্কস অর্গানাইজেশনের সহযোগিতায় প্রস্তুত করা হয়।

ইউএসএসএম-এর প্রধান নির্বাহী স্টেসি ডব্লিউ হেস্টি এক বিবৃতিতে বলেন, এই প্রথম চালান পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতার এক নতুন অধ্যায় সূচিত করল। এটি শুধু বাণিজ্য নয়, দুই দেশের বন্ধুত্বও গভীর করবে।
তিনি আরও যোগ করেন সমঝোতা চুক্তির আলোকে অনুসন্ধান থেকে শুরু করে প্রক্রিয়াজাতকরণ ও পাকিস্তানে রিফাইনারি স্থাপনসহ পুরো খনিজ মূল্য শৃঙ্খলায় সহযোগিতার রূপরেখা তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তি পাকিস্তানের জন্য এক বড় অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। দেশের অব্যবহৃত খনিজ সম্পদের মূল্য প্রায় ৬ ট্রিলিয়ন ডলার হিসেবে ধরা হয়। যা পাকিস্তানকে বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ খনিজভাণ্ডারসমৃদ্ধ দেশে পরিণত করতে পারে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এই অংশীদারত্বের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালের বিকল্প উৎস তৈরি হবে। যা বৈশ্বিক বাজারে প্রভাবশালী সরবরাহকারীদের ওপর নির্ভরতা কমাবে।

তবে বিষয়টি নিয়ে বিরোধী দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ তীব্র আপত্তি জানিয়েছে। দলের তথ্য সম্পাদক শেখ ওয়াক্কাস আকরাম সরকারকে গোপন চুক্তির পুরো বিবরণ প্রকাশের দাবি জানান। তিনি বলেন,ওয়াশিংটনের সঙ্গে এমন গোপন, একতরফা চুক্তি দেশের স্থিতিশীলতা আরও বিপজ্জনক করে তুলবে। সরকারকে অবশ্যই সংসদ ও জনগণের সামনে এসব চুক্তির পূর্ণ বিবরণ প্রকাশ করতে হবে।