Dhaka 5:50 pm, Friday, 16 January 2026

২০ শয্যার হাসপাতালে নেই চিকিৎসক

  • Reporter Name
  • Update Time : 03:35:36 am, Monday, 25 August 2025
  • 119 Time View

চিকিৎসক সংকট ও আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাবে ছিটমহল দহগ্রাম- আঙ্গরপোতার মানুষ এখনো চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন । এখানে নামে মাত্র হাসপাতাল আছে কিন্তু চিকিৎসাসেবা নেই। দহগ্রামের মানুষের জন্য নির্মিত ২০ শয্যার হাসপাতালটি এখন মুখ থুবড়ে পড়েছে। ২০১১ সালে চালুর পরপরই বন্ধ হয়ে গেছে আন্তঃবিভাগ। বহির্বিভাগ চালু থাকলেও চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। হাসপাতালে দেখা মেলে না চিকিৎসকের। মাঝে-মধ্যে ‘ওয়ার্ডবয়’ এসে বহির্বিভাগের রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেন।

স্থানীয়রা জানান, আন্তঃবিভাগ-বহির্বিভাগে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার কথা থাকলেও কোনো কারণ বা ঘোষণা ছাড়াই কয়েক বছর ধরে আন্তঃবিভাগ বন্ধ রয়েছে। বহির্বিভাগে চিকিৎসা দিতে মাঝে-মধ্যে কিছু প্যারাসিটামল ট্যাবলেট নিয়ে দুই ঘণ্টার জন্য হাসপাতাল খুলে বসেন দু-একজন ওয়ার্ডবয় ও নার্স। মাঝে-মধ্যে চিকিৎসকও আসেন, তবে নিয়মিত নন। আর এলেও একটার মধ্যে হাসপাতালে তালা ঝুলিয়ে চলে যান তারা। দুপুরের পর থেকে পরদিন সকাল ১০টা পর্যন্ত কারও কোনো সমস্যা হলে চিকিৎসা নিতেও ছুটতে হয় পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।

ফলে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের পোহাতে হয় নানা দুর্ভোগ। বর্তমানে ইনডোর চিকিৎসাসেবা বন্ধ রয়েছে। আউটডোর ও জরুরি চিকিৎসাসেবা চালু থাকলেও সেটা নামেমাত্র। ইউনিয়নের কেউ অসুস্থ হলে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরের পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কিংবা ১০০ কিলোমিটার দূরে রংপুরে গিয়ে চিকিৎসা নিতে হয়। হাসপাতালটির মূল ফটকে প্রায় সময়ই তালা ঝুলানো থাকে। হঠাৎ কখনো খোলা থাকলেও ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, এর মাঠে গরু-ছাগল চড়ানো হচ্ছে। বেশ কয়েক বছর ধরে ইনডোর চিকিৎসাসেবা বন্ধ থাকার কারণে আধুনিক যন্ত্রপাতি নষ্ট হতে চলেছে।

দহগ্রামের বাসিন্দা বিলকিছ আখতার বলেন, ‘প্রথমে দশ বেডের হাসপাতাল ছিল। পরে বিশ বেডে উন্নীত করা হলেও হাসপাতালটি কোনো কাজেই আসছে না। ডাক্তার না এসেই বেতন নেন। কিন্তু আমরা চিকিৎসা পাই না। তাই বাধ্য হয়ে পাটগ্রাম বা অন্য কোনো হাসপাতালে যেতে হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নষ্ট হচ্ছে হাসপাতালের যন্ত্রপাতি, আসবাবপত্র ও ভবনগুলো। চামচিকা-বাদুরসহ বিভিন্ন প্রাণীর আবাসস্থলে পরিণত হয়েছে এ হাসপাতাল। চিকিৎসক ও নার্সদের বসবাসের জন্য করা আটটি কোয়ার্টার, রোগী পরিবহনের একটি অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার না করায় রুগ্ন হয়ে পড়েছে।

দহগ্রামের গৃহবধূ হাসিনা বেগম জানান, হাতের কাছে হাসপাতাল থাকলেও মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবাসহ যেকোনো সমস্যা হলে পাটগ্রাম হাসপাতালে যেতে হয়। এটা নামের হাসপাতাল, কাজের কাজ কিছুই হয় না এখানে। এরপর কেউ মরতে বসলেও প্রাথমিক চিকিৎসা জোটে না অসহায় দহগ্রামবাসীর ভাগ্যে।

দহগ্রামের কৃষক বাচ্চু মিয়া বলেন, দহগ্রামের হাসপাতালে দেখা মেলে না চিকিৎসকের। মাঝে-মধ্যে ‘ওয়ার্ডবয়’ এসে বহির্বিভাগের রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেন। কিন্তু আমরা চিকিৎসা পাই না। তাই বাধ্য হয়ে পাটগ্রাম বা অন্য কোনো হাসপাতালে যেতে হয়।
দহগ্রাম আঙ্গরপোতা সংগ্রাম কমিটির সম্পাদক রেজানুর রহমান রেজা বলেন, দহগ্রাম হাসপাতাল আছে চিকিৎসা নেই। এখানকার অসুস্থ মানুষ নিরুপায় হয়ে ১৮ কিলোমিটার দূরে পাটগ্রাম কিংবা ১০০ কিলোমিটার দূরে রংপুর বিভাগে গিয়ে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে হয় ।

তবে দহগ্রাম হাসপাতালে ডাক্তার থাকেন না এমন অভিযোগ পুরোপুরি সত্য নয় বলে দাবি করেছেন লালমনিরহাটের সার্জন ডা. আব্দুল হাকিম। তিনি বলেন, চারজন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও মাত্র একজন চিকিৎসক ওখানে (দহগ্রাম হাসপাতালে) চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছেন। তবে জনবল সংকটের কারণে হাসপাতালটির আন্তঃবিভাগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

সর্বাধিক পঠিত

২০ শয্যার হাসপাতালে নেই চিকিৎসক

Update Time : 03:35:36 am, Monday, 25 August 2025

চিকিৎসক সংকট ও আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাবে ছিটমহল দহগ্রাম- আঙ্গরপোতার মানুষ এখনো চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন । এখানে নামে মাত্র হাসপাতাল আছে কিন্তু চিকিৎসাসেবা নেই। দহগ্রামের মানুষের জন্য নির্মিত ২০ শয্যার হাসপাতালটি এখন মুখ থুবড়ে পড়েছে। ২০১১ সালে চালুর পরপরই বন্ধ হয়ে গেছে আন্তঃবিভাগ। বহির্বিভাগ চালু থাকলেও চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। হাসপাতালে দেখা মেলে না চিকিৎসকের। মাঝে-মধ্যে ‘ওয়ার্ডবয়’ এসে বহির্বিভাগের রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেন।

স্থানীয়রা জানান, আন্তঃবিভাগ-বহির্বিভাগে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার কথা থাকলেও কোনো কারণ বা ঘোষণা ছাড়াই কয়েক বছর ধরে আন্তঃবিভাগ বন্ধ রয়েছে। বহির্বিভাগে চিকিৎসা দিতে মাঝে-মধ্যে কিছু প্যারাসিটামল ট্যাবলেট নিয়ে দুই ঘণ্টার জন্য হাসপাতাল খুলে বসেন দু-একজন ওয়ার্ডবয় ও নার্স। মাঝে-মধ্যে চিকিৎসকও আসেন, তবে নিয়মিত নন। আর এলেও একটার মধ্যে হাসপাতালে তালা ঝুলিয়ে চলে যান তারা। দুপুরের পর থেকে পরদিন সকাল ১০টা পর্যন্ত কারও কোনো সমস্যা হলে চিকিৎসা নিতেও ছুটতে হয় পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।

ফলে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের পোহাতে হয় নানা দুর্ভোগ। বর্তমানে ইনডোর চিকিৎসাসেবা বন্ধ রয়েছে। আউটডোর ও জরুরি চিকিৎসাসেবা চালু থাকলেও সেটা নামেমাত্র। ইউনিয়নের কেউ অসুস্থ হলে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরের পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কিংবা ১০০ কিলোমিটার দূরে রংপুরে গিয়ে চিকিৎসা নিতে হয়। হাসপাতালটির মূল ফটকে প্রায় সময়ই তালা ঝুলানো থাকে। হঠাৎ কখনো খোলা থাকলেও ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, এর মাঠে গরু-ছাগল চড়ানো হচ্ছে। বেশ কয়েক বছর ধরে ইনডোর চিকিৎসাসেবা বন্ধ থাকার কারণে আধুনিক যন্ত্রপাতি নষ্ট হতে চলেছে।

দহগ্রামের বাসিন্দা বিলকিছ আখতার বলেন, ‘প্রথমে দশ বেডের হাসপাতাল ছিল। পরে বিশ বেডে উন্নীত করা হলেও হাসপাতালটি কোনো কাজেই আসছে না। ডাক্তার না এসেই বেতন নেন। কিন্তু আমরা চিকিৎসা পাই না। তাই বাধ্য হয়ে পাটগ্রাম বা অন্য কোনো হাসপাতালে যেতে হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নষ্ট হচ্ছে হাসপাতালের যন্ত্রপাতি, আসবাবপত্র ও ভবনগুলো। চামচিকা-বাদুরসহ বিভিন্ন প্রাণীর আবাসস্থলে পরিণত হয়েছে এ হাসপাতাল। চিকিৎসক ও নার্সদের বসবাসের জন্য করা আটটি কোয়ার্টার, রোগী পরিবহনের একটি অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার না করায় রুগ্ন হয়ে পড়েছে।

দহগ্রামের গৃহবধূ হাসিনা বেগম জানান, হাতের কাছে হাসপাতাল থাকলেও মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবাসহ যেকোনো সমস্যা হলে পাটগ্রাম হাসপাতালে যেতে হয়। এটা নামের হাসপাতাল, কাজের কাজ কিছুই হয় না এখানে। এরপর কেউ মরতে বসলেও প্রাথমিক চিকিৎসা জোটে না অসহায় দহগ্রামবাসীর ভাগ্যে।

দহগ্রামের কৃষক বাচ্চু মিয়া বলেন, দহগ্রামের হাসপাতালে দেখা মেলে না চিকিৎসকের। মাঝে-মধ্যে ‘ওয়ার্ডবয়’ এসে বহির্বিভাগের রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেন। কিন্তু আমরা চিকিৎসা পাই না। তাই বাধ্য হয়ে পাটগ্রাম বা অন্য কোনো হাসপাতালে যেতে হয়।
দহগ্রাম আঙ্গরপোতা সংগ্রাম কমিটির সম্পাদক রেজানুর রহমান রেজা বলেন, দহগ্রাম হাসপাতাল আছে চিকিৎসা নেই। এখানকার অসুস্থ মানুষ নিরুপায় হয়ে ১৮ কিলোমিটার দূরে পাটগ্রাম কিংবা ১০০ কিলোমিটার দূরে রংপুর বিভাগে গিয়ে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে হয় ।

তবে দহগ্রাম হাসপাতালে ডাক্তার থাকেন না এমন অভিযোগ পুরোপুরি সত্য নয় বলে দাবি করেছেন লালমনিরহাটের সার্জন ডা. আব্দুল হাকিম। তিনি বলেন, চারজন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও মাত্র একজন চিকিৎসক ওখানে (দহগ্রাম হাসপাতালে) চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছেন। তবে জনবল সংকটের কারণে হাসপাতালটির আন্তঃবিভাগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।