রপ্তানি শুল্ক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান টানাপোড়েনের মধ্যেই দেশটির সফরে যাচ্ছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের জোর সম্ভাবনা রয়েছে তাঁর।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বৈঠকে যোগ দিতে আগামী সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন মোদি। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮০তম সেশন শুরু হচ্ছে আগামী ৯ সেপ্টেম্বর। ২৩ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদে বক্তৃতা দেবেন ট্রাম্প, আর ভারতের সরকারপ্রধান হিসেবে মোদি বক্তব্য দেবেন ২৬ সেপ্টেম্বর। সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ট্রাম্প ও মোদির বৈঠক হতে পারে বলে জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বাধার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউ রুশ তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বেঁধে দেওয়ার পর থেকে কম দামে রাশিয়া থেকে তেল কিনছে ভারত। এ ব্যাপারটি নিয়ে সম্প্রতি আপত্তি জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। একাধিকবার তিনি অভিযোগ করেছেন, রুশ তেল ক্রয়ের মাধ্যমে রাশিয়াকে যুদ্ধের জন্য অর্থ জোগাচ্ছে ভারত। এর পর ৬ আগস্ট ভারতের ওপর অতিরিক্ত আরও ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন ট্রাম্প। ফলে দেশটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নির্ধারিত শুল্কের পরিমাণ বেড়ে পৌঁছায় ৫০ শতাংশে। এ-সংক্রান্ত নির্বাহী আদেশে ট্রাম্প লেখেন, আমি দেখতে পাচ্ছি, ভারত সরকার বর্তমানে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে রুশ ফেডারেশন থেকে তেল আমদানি করছে। আমার বিচারে মনে হচ্ছে, ভারত থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর অ্যাড ভ্যালোরেম শুল্ক আরোপ করা প্রয়োজন।
ট্রাম্পের এই শুল্ক চাপানোর প্রতিক্রিয়ায় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি তেলের দাম স্থিতিশীল রাখা এবং জনগণকে ন্যায্য মূল্যে তেল সরবরাহ করাকে ভারত তার জাতীয় স্বার্থ হিসেবে বিবেচনা করে এবং এই স্বার্থ রক্ষায় যাবতীয় পদক্ষেপ ভারত গ্রহণ করবে। রয়টার্স জানায়, কম দামে রুশ তেল কেনার প্রশ্নে ভারত ‘খানিকটা অবাধ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ বা ট্রেজারি মন্ত্রী স্কট বেসেন্টে। তবে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ইস্যুতে দীর্ঘদিনের মিত্র ও কৌশলগত অংশীদার এই দেশটির সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতার আভাসও দিয়েছেন তিনি। আগামী অক্টোবরে হতে পারে এই সমঝোতা।
Reporter Name 









