Dhaka 2:36 pm, Saturday, 14 March 2026

জাতিসংঘে তোপের মুখে ইসরায়েল, নেতানিয়াহুর পাল্টা বক্তব্য

  • Reporter Name
  • Update Time : 06:11:16 am, Monday, 11 August 2025
  • 114 Time View

জাতিসংঘের রাষ্ট্রদূতরা ইসরায়েলের গাজা সিটি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পরিকল্পনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু একে যুদ্ধ শেষ করার সেরা উপায় বলে দাবি করেছেন।

এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘পরিকল্পিত সামরিক অভিযান খুব দ্রুত পরিচালিত হবে এবং এটি গাজাকে হামাসের হাত থেকে মুক্ত করবে।

নেতানিয়াহু আরও দাবি করেন, গাজায় আটক ইসরায়েলি জিম্মিদের ইচ্ছাকৃতভাবে অনাহারে রাখা হচ্ছে। গাজার জনগণকে ইসরায়েল অনাহারে রাখছে- এ অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।

এদিকে, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করা হয়। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশ সতর্ক করে জানায়, এই পরিকল্পনা ‘আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘনের ঝুঁকি’ তৈরি করতে পারে।

ডেনমার্ক, গ্রিস ও স্লোভেনিয়ার সঙ্গে একত্রে তারা (ইউকে, ফ্রান্স প্রমুখ) এই পরিকল্পনা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটি জিম্মিদের ফেরাতে কোনো সহায়তা করবে না বরং তাদের জীবনের আরও ঝুঁকি বাড়াবে।

নিরাপত্তা পরিষদের অন্যান্য সদস্যরাও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেন। চীন গাজায় মানুষের বিরুদ্ধে সমষ্টিগত শাস্তিকে অগ্রহণযোগ্য বলে অভিহিত করে, আর রাশিয়া বেপরোয়া সংঘাত বৃদ্ধির বিরুদ্ধে সতর্ক করে।

জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব মিরোস্লাভ জেঙ্কা বৈঠকে বলেন, ‘যদি এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়, তবে তা গাজায় আরেকটি বিপর্যয় ডেকে আনবে, যা পুরো অঞ্চলে প্রভাব ফেলবে এবং আরও জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি, হত্যাকাণ্ড ও ধ্বংসযজ্ঞ ঘটাবে।’

জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক দপ্তরের রমেশ রাজাসিংহম জানান, গাজার খাদ্য সংকট আর আসন্ন নয়; বরং এটি এখন সরাসরি দুর্ভিক্ষ, নিছক ও নিখাদ অনাহার।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

সর্বাধিক পঠিত

জাতিসংঘে তোপের মুখে ইসরায়েল, নেতানিয়াহুর পাল্টা বক্তব্য

Update Time : 06:11:16 am, Monday, 11 August 2025

জাতিসংঘের রাষ্ট্রদূতরা ইসরায়েলের গাজা সিটি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পরিকল্পনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু একে যুদ্ধ শেষ করার সেরা উপায় বলে দাবি করেছেন।

এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘পরিকল্পিত সামরিক অভিযান খুব দ্রুত পরিচালিত হবে এবং এটি গাজাকে হামাসের হাত থেকে মুক্ত করবে।

নেতানিয়াহু আরও দাবি করেন, গাজায় আটক ইসরায়েলি জিম্মিদের ইচ্ছাকৃতভাবে অনাহারে রাখা হচ্ছে। গাজার জনগণকে ইসরায়েল অনাহারে রাখছে- এ অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।

এদিকে, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করা হয়। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশ সতর্ক করে জানায়, এই পরিকল্পনা ‘আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘনের ঝুঁকি’ তৈরি করতে পারে।

ডেনমার্ক, গ্রিস ও স্লোভেনিয়ার সঙ্গে একত্রে তারা (ইউকে, ফ্রান্স প্রমুখ) এই পরিকল্পনা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটি জিম্মিদের ফেরাতে কোনো সহায়তা করবে না বরং তাদের জীবনের আরও ঝুঁকি বাড়াবে।

নিরাপত্তা পরিষদের অন্যান্য সদস্যরাও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেন। চীন গাজায় মানুষের বিরুদ্ধে সমষ্টিগত শাস্তিকে অগ্রহণযোগ্য বলে অভিহিত করে, আর রাশিয়া বেপরোয়া সংঘাত বৃদ্ধির বিরুদ্ধে সতর্ক করে।

জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব মিরোস্লাভ জেঙ্কা বৈঠকে বলেন, ‘যদি এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়, তবে তা গাজায় আরেকটি বিপর্যয় ডেকে আনবে, যা পুরো অঞ্চলে প্রভাব ফেলবে এবং আরও জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি, হত্যাকাণ্ড ও ধ্বংসযজ্ঞ ঘটাবে।’

জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক দপ্তরের রমেশ রাজাসিংহম জানান, গাজার খাদ্য সংকট আর আসন্ন নয়; বরং এটি এখন সরাসরি দুর্ভিক্ষ, নিছক ও নিখাদ অনাহার।