Dhaka 2:48 am, Monday, 19 January 2026

গোয়াইনঘাটে ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ঘর নির্মাণ বন্ধ:ভোগান্তিতে জুবায়ের আহমদ

গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি:
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ডৌবাড়ী ইউনিয়নের রহা গ্রামের মাওলানা মোঃ জুবায়ের আহমদের স্বপ্ন ছিল একটি নতুন ঘর নির্মাণের। কিন্তু তার জমির মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক খুঁটি সেই স্বপ্নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ঘর নির্মাণ শুরুর আগে বিষয়টি মাথায় রেখে তিনি গত বছরের ১৭ নভেম্বর (আবেদন নং: ৩০৫) সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করেন। নির্ধারিত ফি জমা দেওয়ার পর তিনি ধারণা করেছিলেন, নিয়ম অনুযায়ী খুঁটি সরিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু পরে তাকে জানানো হয়, খুঁটি স্থানান্তরে খরচ হবে ৩২,৯২৪ টাকা।

“আমি একজন সাধারণ মানুষ,” বলেন জুবায়ের আহমদ। “এত টাকা দিয়ে খুঁটি সরানো সম্ভব নয়। ফলে নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। পরিবার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে।”

স্থানীয়রাও জানান, খুঁটিটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। কিন্তু অতিরিক্ত খরচের কারণে অনেকেই বাধ্য হয়ে ঝুঁকির মধ্যেই বসবাস করছেন।
একজন গ্রামবাসী বলেন, “সরকার যেখানে সহজ শর্তে গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিচ্ছে, সেখানে খুঁটি সরাতে অতিরিক্ত খরচ চাপানো দুঃখজনক।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর জেনারেল ম্যানেজার রবিউল হক বলেন, “এখন আমাদের কোন প্রকল্প নেই। তাই খুঁটি সরাতে ওই খরচই বহন করতে হবে।”

একটি নিরাপদ বসবাসের আশায় ঘর তুলতে গিয়ে মাওলানা জুবায়েরের মতো সাধারণ মানুষ যখন বাধার মুখে পড়েন, তখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব হয় সমস্যার মানবিক ও ন্যায্য সমাধান নিশ্চিত করা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

সর্বাধিক পঠিত

গোয়াইনঘাটে ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ঘর নির্মাণ বন্ধ:ভোগান্তিতে জুবায়ের আহমদ

Update Time : 11:08:36 am, Tuesday, 29 April 2025

গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি:
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ডৌবাড়ী ইউনিয়নের রহা গ্রামের মাওলানা মোঃ জুবায়ের আহমদের স্বপ্ন ছিল একটি নতুন ঘর নির্মাণের। কিন্তু তার জমির মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক খুঁটি সেই স্বপ্নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ঘর নির্মাণ শুরুর আগে বিষয়টি মাথায় রেখে তিনি গত বছরের ১৭ নভেম্বর (আবেদন নং: ৩০৫) সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করেন। নির্ধারিত ফি জমা দেওয়ার পর তিনি ধারণা করেছিলেন, নিয়ম অনুযায়ী খুঁটি সরিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু পরে তাকে জানানো হয়, খুঁটি স্থানান্তরে খরচ হবে ৩২,৯২৪ টাকা।

“আমি একজন সাধারণ মানুষ,” বলেন জুবায়ের আহমদ। “এত টাকা দিয়ে খুঁটি সরানো সম্ভব নয়। ফলে নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। পরিবার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে।”

স্থানীয়রাও জানান, খুঁটিটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। কিন্তু অতিরিক্ত খরচের কারণে অনেকেই বাধ্য হয়ে ঝুঁকির মধ্যেই বসবাস করছেন।
একজন গ্রামবাসী বলেন, “সরকার যেখানে সহজ শর্তে গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিচ্ছে, সেখানে খুঁটি সরাতে অতিরিক্ত খরচ চাপানো দুঃখজনক।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর জেনারেল ম্যানেজার রবিউল হক বলেন, “এখন আমাদের কোন প্রকল্প নেই। তাই খুঁটি সরাতে ওই খরচই বহন করতে হবে।”

একটি নিরাপদ বসবাসের আশায় ঘর তুলতে গিয়ে মাওলানা জুবায়েরের মতো সাধারণ মানুষ যখন বাধার মুখে পড়েন, তখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব হয় সমস্যার মানবিক ও ন্যায্য সমাধান নিশ্চিত করা।