Dhaka 6:54 pm, Friday, 16 January 2026

এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ প্রস্তুতির নিরপেক্ষ মূল্যায়নে সহায়তা দেবে জাতিসংঘ

  • Reporter Name
  • Update Time : 05:17:28 am, Tuesday, 30 September 2025
  • 134 Time View

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের আনুষ্ঠানিক অনুরোধের প্রেক্ষিতে দেশের এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়নে সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে জাতিসংঘ।

সংস্থার আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল এবং স্বল্পোন্নত দেশ, স্থলবেষ্টিত উন্নয়নশীল দেশ এবং ক্ষুদ্র দ্বীপপুঞ্জের উন্নয়নশীল দেশের উচ্চ প্রতিনিধি রাবাব ফাতিমা সোমবার নিউইয়র্কে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে এ ঘোষণা দেন।

তিনি জানান, আগামী এক মাসের মধ্যে এ মূল্যায়ন শুরু এবং জানুয়ারির মধ্যভাগে শেষ হবে। একজন আন্তর্জাতিক পরামর্শক ও একজন বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞ যৌথভাবে এ কাজ পরিচালনা করবেন, যাতে একটি পূর্ণাঙ্গ ও ভারসাম্যপূর্ণ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা যায়।

মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় সরকারি কর্মকর্তা, বাণিজ্য সংগঠন, উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ, সুশীল সমাজের নেতা, দাতা সংস্থা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে ব্যাপক পরামর্শ করা হবে। এর মাধ্যমে নিরূপণ করা হবে—বাংলাদেশ উত্তরণের জন্য কতটা প্রস্তুত।
প্রধান উপদেষ্টা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘এটি এখন এক আবেগের বিষয়ে পরিণত হয়েছে। তবে এগুতে হলে আমাদের বাস্তবভিত্তিক প্রমাণ দরকার।’

তিনি নীতিনির্ধারণে তথ্য-উপাত্তের গুরুত্ব তুলে ধরেন। এর জবাবে রাবাব ফাতিমা উল্লেখ করেন, জাতিসংঘের কাছে বাংলাদেশের সর্বশেষ অর্থনৈতিক তথ্য দুই বছরেরও বেশি পুরোনো। তিনি বলেন, ‘এর মধ্যে অনেক পরিবর্তন ঘটেছে। তাই হালনাগাদ মূল্যায়ন জরুরি, যাতে বর্তমান অর্থনৈতিক চিত্র অনুযায়ী সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।’

প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এলডিসি মর্যাদার কারণে এ খাত বড় সুবিধা পেয়েছে। তবে উত্তরণের পর সঠিক রূপান্তর পরিকল্পনা না থাকলে এ শিল্প ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব হিসেবে ২০২২ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করে আসা রাবাব ফাতিমা, যিনি সর্বোচ্চ পদে থাকা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কর্মকর্তা, বৈঠকে জাতিসংঘে তার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

প্রধান উপদেষ্টা আরও আগ্রহ প্রকাশ করেন, কীভাবে বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তারা জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থায় কাজের সুযোগ নিতে পারেন এবং এভাবে আন্তর্জাতিক পরিসরে দেশের সম্পৃক্ততা জোরদার করা যায়।

বৈঠকে এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ, পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

সর্বাধিক পঠিত

এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ প্রস্তুতির নিরপেক্ষ মূল্যায়নে সহায়তা দেবে জাতিসংঘ

Update Time : 05:17:28 am, Tuesday, 30 September 2025

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের আনুষ্ঠানিক অনুরোধের প্রেক্ষিতে দেশের এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়নে সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে জাতিসংঘ।

সংস্থার আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল এবং স্বল্পোন্নত দেশ, স্থলবেষ্টিত উন্নয়নশীল দেশ এবং ক্ষুদ্র দ্বীপপুঞ্জের উন্নয়নশীল দেশের উচ্চ প্রতিনিধি রাবাব ফাতিমা সোমবার নিউইয়র্কে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে এ ঘোষণা দেন।

তিনি জানান, আগামী এক মাসের মধ্যে এ মূল্যায়ন শুরু এবং জানুয়ারির মধ্যভাগে শেষ হবে। একজন আন্তর্জাতিক পরামর্শক ও একজন বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞ যৌথভাবে এ কাজ পরিচালনা করবেন, যাতে একটি পূর্ণাঙ্গ ও ভারসাম্যপূর্ণ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা যায়।

মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় সরকারি কর্মকর্তা, বাণিজ্য সংগঠন, উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ, সুশীল সমাজের নেতা, দাতা সংস্থা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে ব্যাপক পরামর্শ করা হবে। এর মাধ্যমে নিরূপণ করা হবে—বাংলাদেশ উত্তরণের জন্য কতটা প্রস্তুত।
প্রধান উপদেষ্টা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘এটি এখন এক আবেগের বিষয়ে পরিণত হয়েছে। তবে এগুতে হলে আমাদের বাস্তবভিত্তিক প্রমাণ দরকার।’

তিনি নীতিনির্ধারণে তথ্য-উপাত্তের গুরুত্ব তুলে ধরেন। এর জবাবে রাবাব ফাতিমা উল্লেখ করেন, জাতিসংঘের কাছে বাংলাদেশের সর্বশেষ অর্থনৈতিক তথ্য দুই বছরেরও বেশি পুরোনো। তিনি বলেন, ‘এর মধ্যে অনেক পরিবর্তন ঘটেছে। তাই হালনাগাদ মূল্যায়ন জরুরি, যাতে বর্তমান অর্থনৈতিক চিত্র অনুযায়ী সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।’

প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এলডিসি মর্যাদার কারণে এ খাত বড় সুবিধা পেয়েছে। তবে উত্তরণের পর সঠিক রূপান্তর পরিকল্পনা না থাকলে এ শিল্প ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব হিসেবে ২০২২ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করে আসা রাবাব ফাতিমা, যিনি সর্বোচ্চ পদে থাকা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কর্মকর্তা, বৈঠকে জাতিসংঘে তার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

প্রধান উপদেষ্টা আরও আগ্রহ প্রকাশ করেন, কীভাবে বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তারা জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থায় কাজের সুযোগ নিতে পারেন এবং এভাবে আন্তর্জাতিক পরিসরে দেশের সম্পৃক্ততা জোরদার করা যায়।

বৈঠকে এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ, পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।