Dhaka 3:00 pm, Saturday, 14 March 2026

অর্থনীতির যাত্রায় মন্থরগতি

  • Reporter Name
  • Update Time : 03:23:38 am, Sunday, 24 August 2025
  • 101 Time View

মন্থরগতিতে শুরু হয়েছে নতুন ২০২৫-২৬ অর্থবছর। একক মাস হিসেবে চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসে (জুলাই) বাজেট বাস্তবায়ন গত এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। রাজস্ব আহরণও চলছে ধীরগতিতে। এর মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তাও। ফলে রাজস্ব আহরণে ভাটার টান আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে চাহিদা ও উৎপাদনশীলতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে জিডিপি প্রবৃদ্ধির ওপর। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না। সর্বসাধারণের ওপর মূল্যস্ফীতির চাপ। বড় দুশ্চিন্তার বিষয় বিনিয়োগে স্থবিরতা। বেসরকারি বিনিয়োগ কমেছে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, জ্বালানি সংকট ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কারণে। অর্থনীতিকরা মনে করছেন, বিনিয়োগ না বাড়লে অর্থনীতির কোনো অর্জনই টেকসই হবে না।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সিনিয়র রিসার্চ ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান গতকাল আমাদের সময়কে বলেন, যেসব প্রকল্প শেষের দিকে রয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নে নজর দিতে হবে। নতুন প্রকল্প নেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক হতে হবে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা না থাকলে ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তারা বিনিয়োগ করতে আস্থা পান না। দেশি বিনিয়োগকারীরা দেশের পরিস্থিতি ভালোভাবে জানেন। তারা অস্থির রাজনৈতিক পরিবেশে বিনিয়োগে আগ্রহী হন না। তারা বিনিয়োগে না এলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও আগ্রহী হন না। নিরাপদ পরিবেশ ছাড়া কেউ বিনিয়োগের ঝুঁঁকি নিতে চান না। তাই বিনিয়োগ বাড়াতে হলে স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ জরুরি। এ ছাড়া গ্যাস-বিদ্যুতের নিশ্চয়তা দরকার।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের শুরুতেই ধীরগতি দেখা দিয়েছে। প্রথম মাস জুলাইয়ে উন্নয়ন প্রকল্পের এক টাকাও খরচ করতে পারেনি ১২টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ। মাসজুড়ে কোনো টাকাই খরচ করতে পারেননি প্রকল্প কর্মকর্তারা। চলতি অর্থবছরে এসব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ১৩০টি প্রকল্পে প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ আছে।
এডিপি বাস্তবায়নে ধীরগতির বিষয়টি নিয়ে অর্থনীতিবিদরা হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, বাস্তবায়নের হার এত কম হওয়া উদ্বেগজনক।

আইএমইডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরের এডিপিতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৬৯৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। কিন্তু জুলাই মাসে বাস্তবায়ন হয়েছে মাত্র ১ হাজার ৬৪৪ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। শতাংশের হিসাবে তা দাঁড়িয়েছে শূন্য দশমিক ৬৯ ভাগে। অথচ গত অর্থবছরের একই সময়ে বাস্তবায়ন হয়েছিল ২ হাজার ৯২২ কোটি ৩৬ লাখ টাকা, যা বরাদ্দের ১ দশমিক ০৫ শতাংশ। অর্থাৎ চলতি বছর প্রথম মাসের বাস্তবায়ন একক মাস হিসেবে গত এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।

পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ সম্প্রতি বলেছেন, গত অর্থবছরজুড়ে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল সবচেয়ে কম। চলতি বছরের শুরুতেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে এডিপি বাস্তবায়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ায় জানুয়ারি থেকে প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি আবার মন্থর হয়ে যেতে পারে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্র জানিয়েছে, জুলাই মাসে শুল্ক-কর আদায়ে ঘাটতি হয়েছে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা। আন্দোলন থেমে যাওয়ার পরও রাজস্ব আদায় ভালো করতে পারেনি এনবিআর। জুলাইয়ে এনবিআর রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ছিল ৩০ হাজার ১১১ কোটি টাকা, আদায় হয়েছে ২৭ হাজার ২৪৭ কোটি টাকা। ঘাটতি ২ হাজার ৮৬৪ কোটি টাকা।

এদিকে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণের পরও দেশে আশানুরূপ বিনিয়োগ হচ্ছে না। শিল্প খাতে জড়িতরা জানিয়েছেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা না আসায় উদ্যোক্তারা বিনিয়োগে আস্থা পাচ্ছেন না। প্রস্তুতি নিয়েও অনেকে বিনিয়োগ করছেন না। একই মত জানিয়েছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারা বলেছেন, সবার অংশগ্রহণের মাধ্যমে নির্বাচন অনুষ্ঠানের পর সরকার গঠিত হলে রাজনৈতিক স্থিরতা বজায় থাকবে।
এদিকে মূল্যস্ফীতির চাপ, বেসরকারি খাতের বিনিয়োগে ধীরগতি ও কর্মসংস্থানের অভাব সাধারণ মানুষের সঞ্চয় সক্ষমতার ওপর চাপ সৃষ্টি করায় রেমিট্যান্স বাড়ার পরও ব্যাংক খাতে জুন শেষে আমানতে প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশের নিচে ছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন মাসের শেষে ব্যাংক খাতে মোট আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৮.৭৮ লাখ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭.৭৭ শতাংশ বেশি।

সাধারণত মূল্যস্ফীতি কমলে আমানত বাড়ে। তবে গত কয়েক মাসে মূল্যস্ফীতি সামান্য কমলেও বিনিয়োগ সেভাবে না থাকায় নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে না। মানুষের আয় না বাড়ায় তাদের সঞ্চয়ের ক্ষমতাও সীমিত হয়ে গেছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের দাম একযোগে বাড়ায় তিন মাস কমার পর জুলাইয়ে মূল্যস্ফীতি আবার বেড়ে ৮.৫৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এর আগে মূল্যস্ফীতি ক্রমান্বয়ে কমছিল- মার্চে ৯.৩৫ শতাংশ থেকে এপ্রিলে ৯.১৭ শতাংশ, মে মাসে ৯.০৫ শতাংশ ও জুনে ৮.৪৮ শতাংশে নেমেছিল। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ১১.৬৬ শতাংশ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

সর্বাধিক পঠিত

অর্থনীতির যাত্রায় মন্থরগতি

Update Time : 03:23:38 am, Sunday, 24 August 2025

মন্থরগতিতে শুরু হয়েছে নতুন ২০২৫-২৬ অর্থবছর। একক মাস হিসেবে চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসে (জুলাই) বাজেট বাস্তবায়ন গত এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। রাজস্ব আহরণও চলছে ধীরগতিতে। এর মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তাও। ফলে রাজস্ব আহরণে ভাটার টান আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে চাহিদা ও উৎপাদনশীলতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে জিডিপি প্রবৃদ্ধির ওপর। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না। সর্বসাধারণের ওপর মূল্যস্ফীতির চাপ। বড় দুশ্চিন্তার বিষয় বিনিয়োগে স্থবিরতা। বেসরকারি বিনিয়োগ কমেছে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, জ্বালানি সংকট ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কারণে। অর্থনীতিকরা মনে করছেন, বিনিয়োগ না বাড়লে অর্থনীতির কোনো অর্জনই টেকসই হবে না।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সিনিয়র রিসার্চ ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান গতকাল আমাদের সময়কে বলেন, যেসব প্রকল্প শেষের দিকে রয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নে নজর দিতে হবে। নতুন প্রকল্প নেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক হতে হবে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা না থাকলে ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তারা বিনিয়োগ করতে আস্থা পান না। দেশি বিনিয়োগকারীরা দেশের পরিস্থিতি ভালোভাবে জানেন। তারা অস্থির রাজনৈতিক পরিবেশে বিনিয়োগে আগ্রহী হন না। তারা বিনিয়োগে না এলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও আগ্রহী হন না। নিরাপদ পরিবেশ ছাড়া কেউ বিনিয়োগের ঝুঁঁকি নিতে চান না। তাই বিনিয়োগ বাড়াতে হলে স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ জরুরি। এ ছাড়া গ্যাস-বিদ্যুতের নিশ্চয়তা দরকার।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের শুরুতেই ধীরগতি দেখা দিয়েছে। প্রথম মাস জুলাইয়ে উন্নয়ন প্রকল্পের এক টাকাও খরচ করতে পারেনি ১২টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ। মাসজুড়ে কোনো টাকাই খরচ করতে পারেননি প্রকল্প কর্মকর্তারা। চলতি অর্থবছরে এসব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ১৩০টি প্রকল্পে প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ আছে।
এডিপি বাস্তবায়নে ধীরগতির বিষয়টি নিয়ে অর্থনীতিবিদরা হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, বাস্তবায়নের হার এত কম হওয়া উদ্বেগজনক।

আইএমইডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরের এডিপিতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৬৯৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। কিন্তু জুলাই মাসে বাস্তবায়ন হয়েছে মাত্র ১ হাজার ৬৪৪ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। শতাংশের হিসাবে তা দাঁড়িয়েছে শূন্য দশমিক ৬৯ ভাগে। অথচ গত অর্থবছরের একই সময়ে বাস্তবায়ন হয়েছিল ২ হাজার ৯২২ কোটি ৩৬ লাখ টাকা, যা বরাদ্দের ১ দশমিক ০৫ শতাংশ। অর্থাৎ চলতি বছর প্রথম মাসের বাস্তবায়ন একক মাস হিসেবে গত এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।

পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ সম্প্রতি বলেছেন, গত অর্থবছরজুড়ে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল সবচেয়ে কম। চলতি বছরের শুরুতেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে এডিপি বাস্তবায়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ায় জানুয়ারি থেকে প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি আবার মন্থর হয়ে যেতে পারে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্র জানিয়েছে, জুলাই মাসে শুল্ক-কর আদায়ে ঘাটতি হয়েছে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা। আন্দোলন থেমে যাওয়ার পরও রাজস্ব আদায় ভালো করতে পারেনি এনবিআর। জুলাইয়ে এনবিআর রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ছিল ৩০ হাজার ১১১ কোটি টাকা, আদায় হয়েছে ২৭ হাজার ২৪৭ কোটি টাকা। ঘাটতি ২ হাজার ৮৬৪ কোটি টাকা।

এদিকে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণের পরও দেশে আশানুরূপ বিনিয়োগ হচ্ছে না। শিল্প খাতে জড়িতরা জানিয়েছেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা না আসায় উদ্যোক্তারা বিনিয়োগে আস্থা পাচ্ছেন না। প্রস্তুতি নিয়েও অনেকে বিনিয়োগ করছেন না। একই মত জানিয়েছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারা বলেছেন, সবার অংশগ্রহণের মাধ্যমে নির্বাচন অনুষ্ঠানের পর সরকার গঠিত হলে রাজনৈতিক স্থিরতা বজায় থাকবে।
এদিকে মূল্যস্ফীতির চাপ, বেসরকারি খাতের বিনিয়োগে ধীরগতি ও কর্মসংস্থানের অভাব সাধারণ মানুষের সঞ্চয় সক্ষমতার ওপর চাপ সৃষ্টি করায় রেমিট্যান্স বাড়ার পরও ব্যাংক খাতে জুন শেষে আমানতে প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশের নিচে ছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন মাসের শেষে ব্যাংক খাতে মোট আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৮.৭৮ লাখ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭.৭৭ শতাংশ বেশি।

সাধারণত মূল্যস্ফীতি কমলে আমানত বাড়ে। তবে গত কয়েক মাসে মূল্যস্ফীতি সামান্য কমলেও বিনিয়োগ সেভাবে না থাকায় নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে না। মানুষের আয় না বাড়ায় তাদের সঞ্চয়ের ক্ষমতাও সীমিত হয়ে গেছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের দাম একযোগে বাড়ায় তিন মাস কমার পর জুলাইয়ে মূল্যস্ফীতি আবার বেড়ে ৮.৫৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এর আগে মূল্যস্ফীতি ক্রমান্বয়ে কমছিল- মার্চে ৯.৩৫ শতাংশ থেকে এপ্রিলে ৯.১৭ শতাংশ, মে মাসে ৯.০৫ শতাংশ ও জুনে ৮.৪৮ শতাংশে নেমেছিল। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ১১.৬৬ শতাংশ।