নোটিশ, মামলা,হামলার ভয় দেখিয়ে আমাকে থামানো যাবে না : আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোঃ আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন- আমিও শুনেছি দুর্নীতি দমন কমিশন থেকে একটি নোটিশ আমার সিলেটের বাসায় সাটানো হয়েছে। আপনারা সবাই জানেন এই বাসাটি আমার বড় ভাই এবং আমার যৌথ নামে।আর এই বাসাটি আমার সিটি নির্বাচনের অনেক আগে কেনা।তাছাড়া আমার নির্বাচনী হলফ নামায় সকল আয় ব্যয়ের তথ্যা নির্বাচন কমিশনকে দিয়েছি।
১ অক্টোবর লন্ডনে স্থানীয় এক সাংবাদিক সাথে বাংলাদেশে দুদকের করা নোটিশের বিষয়ে আলাপকালে তিনি আরো বলেন,আমি আমার পরিবারের সকলের আয় ব্যয়ের তথ্য জমা দিয়েছি। আপনারা জানেন আমার স্ত্রী লন্ডনে একটি চাকরি করেন এমনকি আমার তিন ছেলে লন্ডনে পড়াশোনা শেষ করে চাকরি করছে। আমি অনেক ছোটবেলা থেকে লন্ডনে বসবাস করছি।
আপনারা নিশ্চয়ই অবগত আছেন ৫ আগস্ট পরবর্তী সময় থেকে আমি দলের পক্ষে, দেশের পক্ষে, শেখ হাসিনার পক্ষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে আসছি। আমি মনে করি সরকার আমাকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করার জন্য নোটিশ পাঠিয়েছে।নোটিশ, মামলা,হামলার ভয় দেখিয়ে আমাকে থামানো যাবে না। যেদিন তারা নোটিশ পাঠায় সেদিনও আমি প্যারিসের একটি কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছি।
এর আগেও তারা বিভিন্নভাবে আমাকে হুমকি দিয়েছে আমি দলের পক্ষে কথা বলা বন্ধ করে দেয়ার জন্য। আমাকে ১শটির উপরে মামলায় আসামি করা হয়েছে। তারপরও আমি থেমে না যাওয়ায় এখন দুদক দিয়ে আমাকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এগুলো নিয়ে আমি সংক্ষিত নয়। হলফনামায় আমি যে আয় ব্যয়ের হিসাব দিয়েছি সেটিই সঠিক।
আমি আরেকটি বিষয় জানিয়ে দিতে চাই যদি দুদক আয় ব্যয়ের হিসাব বহির্ভূত কোন সম্পত্তি পায় সেগুলো আমি রাষ্ট্রীয় কোষাগারে দিতে রাজি আছি। তবে আমি চাই তারা এটা জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে। তারা প্রকাশ করুক যে আমার কোন সম্পত্তির হিসাব ফলকনামায় আগে প্রকাশ করিনি। আমার দাদার সম্পত্তি আমার বাবার সম্পত্তি আমার মায়ের সম্পত্তি এগুলো আমার ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। এগুলো আমাদের পরিবারের সভার সম্পত্তি। দুদক যদি আমার পরিবারের সকল সম্পত্তি আমার নামে চালিয়ে দেয় তাহলে তো আমার কিছু করার নেই।
আমি ছোটবেলা থেকে সামাজিক কর্মকান্ডসহ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলাম। আমাদের পরিবারের সবাই অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত স্বচ্ছল। আমি রাজনীতি করে কোন অবৈধ সম্পত্তি বা টাকা ইনকাম করিনি। এখন যদি কারো চাপে দুদক কোন অপতথ্য প্রচার করে ইনশাআল্লাহ আমি সেটা আইনিভাবে মোকাবিলা করব। অলরেডি আমার আইনি সহায়ক টিম এ নিয়ে কাজ করছে।
২১ দিনের মধ্যে আইনিভাবে আমি দুদককে এর জবাব দিব। যদিও এখন আমি স্বশরীরে সেখানে যেতে পারবো না আমার আইনি সহায়ক টিম এ নিয়ে তাদের জবাব দিবে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, আপনারা সবাই জানেন, দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। প্রকাশ্যে মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে।মব করে মানুষের উপর হামলা,বাসা,বাড়িতে হামলা করা হচ্ছে । আপনারা দেখেছেন জেলের মধ্যে বিচার বহির্ভূতভাবে আমাদের নেতা কর্মীদের অত্যাচার করা হচ্ছে।
তিনি বলেন,বর্তমান ইউনুস সরকার আমাকে রাজনীতিতে নীরব রাখতে এই মিথ্যা নাটক সাজিয়েছে। আমাকে এবং আমার পরিবারকে অসম্মানিত করার জন্য এই মিথ্যা তথ্য জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য দুদককে দিয়ে নাটক করানো হচ্ছে । আমি দল এবং দেশের পক্ষে কথা বলা বন্ধ করে দেয়ার জন্য এই চাপ প্রয়োগ করার চেষ্টা করছে। ইনশাল্লাহ আমি দলের পক্ষে আমৃত্যু কথা বলে যাব।
উল্লেখ্য,সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মোঃ আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের সম্পদ বিবরণী চেয়ে নোটিশ দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ২৭ সেপ্টেম্বর রোববার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে নগরের পাঠানটুলা এলাকায় সাবেক মেয়রের বাসভবনের দরজায় নোটিশটি টাঙিয়ে দেওয়া হয়।
বার্তা প্রেরক
সাজলু লস্কর
০১/১০/২০২৫
Reporter Name 









