শ্রদ্ধেয় জালালাবাদবাসী,
আজ থেকে শুরু হয়েছে আমাদের প্রিয় সংগঠন “জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন অব টরেন্টো, কানাডা”-এর কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন। ১৫, ১৬ ও ১৭ মে পর্যন্ত চলমান এই নির্বাচনে আমরা আমাদের আগামী দিনের প্রতিনিধি নির্বাচন করব। একজন সচেতন ভোটার হিসেবে আমার প্রত্যাশা- আমরা আবেগ নয়, বরং প্রজ্ঞা ও যোগ্যতা বিবেচনায় আমাদের মূল্যবান রায় প্রদান করব।
ভোট প্রদানের আগে আমাদের কিছু মৌলিক বিষয়ে গভীর বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। আমাদের মনে রাখা জরুরি যে, একটি সামাজিক সংগঠন কখনোই দেশ বা জাতির বৃহত্তর স্বার্থের বাইরে নয়।
কেন আমাদের সজাগ হওয়া প্রয়োজন?
বিগত কয়েক বছরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে যে পরিবর্তনগুলো এসেছে, তার প্রভাব সুদূরপ্রসারী। যারা নিজেদের ক্ষুদ্র স্বার্থে বা দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নে দেশের সার্বভৌমত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে দ্বিধা করে না, যারা বিদেশের সাথে আত্মঘাতী চুক্তির সহযোগী হিসেবে কাজ করে- তাদের চেনা আজ সময়ের দাবি।
সামাজিক সংগঠনের সাথে রাজনীতির সম্পর্ক কী?
অনেকেই প্রশ্ন করতে পারেন, একটি আঞ্চলিক বা নির্দলীয় সংগঠনে এসব প্রসঙ্গ কেন? উত্তরটি অত্যন্ত সহজ-
আদর্শিক দৃঢ়তা :
যারা মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা, বঙ্গবন্ধু এবং আমাদের জাতীয় প্রতীকের (পতাকা ও সংগীত) অবমাননা সহ্য করতে পারে, তারা কখনোই একটি সর্বজনীন সামাজিক সংগঠনের আদর্শ ধরে রাখতে পারবে না।
সংগঠনের সুরক্ষা :
যারা সংকীর্ণ দলীয় স্বার্থে দেশের ক্ষতি করতে পারে, তারা যেকোনো সময় এই সামাজিক সংগঠনটিকেও নিজেদের আখের গোছানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।
একতার সংকট :
একটি আঞ্চলিক সংগঠনের মূল ভিত্তি হলো ‘অসাম্প্রদায়িকতা’ ও ‘একতা’। কিন্তু সুবিধাবাদী নেতৃত্ব এই ঐক্য বিনষ্ট করে সংগঠনকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিতে পারে।
আমার বিনীত অনুরোধ-
আসুন, আমরা এমন নেতৃত্বকে বেছে নিই, যারা হৃদয়ে বাংলাদেশ এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালন করেন। সংগঠনকে ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করবেন না। প্রবাসে আমাদের জালালাবাদি ঐতিহ্য ও ঐক্যকে আরও সুসংহত করবেন।
ষড়যন্ত্রকারী এবং সুবিধাবাদীদের থেকে সাবধান থাকুন। আপনার একটি ভোটই পারে আমাদের প্রাণের সংগঠনকে সঠিক ও নিরাপদ পথে পরিচালিত করতে।
সঠিক বিচার ও বিবেচনার জয় হোক।
নিবেদক-
বিশিষ্ট লেখক ও রাজনীতিবিদ
হুসাইন আহমেদ সিলেট।
নিজস্ব প্রতিবেদন 








