Dhaka 5:25 am, Thursday, 16 April 2026

কয়েক ঘন্টায় ৫ বিঘা কৃষিজমি যমুনার গর্ভে বিলীন, হুমকির মুখে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ

  • Reporter Name
  • Update Time : 04:39:36 am, Sunday, 24 August 2025
  • 155 Time View

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা ভারি বর্ষণে বগুড়ার সারিয়াকান্দি গোদাখালি গ্রামে যমুনা নদীর ভাঙনে রুদ্রমূর্তি ধারণ করেছে। সেখানে প্রায় ১ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। কয়েকদিনে এই এলাকায় কৃষকদের ৩ ফসলি কৃষিজমি যমুনায় বিলীন হয়েছে। যমুনার গর্ভে বিলীন হওয়ার জমিতে ধান,
পাট মরিচসহ নানা ধরনের ফসল চাষ হতো। এলাকাবাসী জানান, গত বৃহস্পতিবার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই প্রায় ৫ বিঘা কৃষিজমি যমুনায় বিলীন হয়েছে। যমুনা নদীর থেকে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধের দূরত্ব মাত্র ২০০ মিটার।
স্থানীয়দের মতে, এভাবে ভাঙন অব্যাহত থাকলে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ যেকোনও সময়ে ভেঙে গিয়ে ৪ ইউনিয়নের লাখো মানুষ বন্যায় প্লাবিত হবেন। ফলে উপজেলার কামালপুর, ভেলাবাড়ী, চন্দনবাইশা এবং কুতুবপুর ইউনিয়নের লাখো এলাকাবাসী বন্যায় প্লাবিত হবে।
এছাড়া এসব ইউনিয়নের কৃষকদের সদ্য বেড়ে ওঠা আমন ধান পানিতে তলিয়ে যাবে যাবে।
তাই এলাকাবাসী দ্রুত নদী ভাঙন কবলিত এলাকায় জরুরি কাজ চায় । অপরদিকে সারিয়াকান্দির কামালপুর ইউনিয়নের গোদাখালি এবং ইছামারা গ্রামে আবারো যমুনা নদীর তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। যেখানে গত দুই বছর আগেও প্রায় ৭০ টি বসতবাড়ি কয়েক ঘন্টার মধ্যে যমুনা নদীতে বিলীন হয়েছিল। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে সেখানে নদী ভাঙন রোধে কাজ করা হয়, ফলে ভাঙন কবলিত এলাকায় নদী ভাঙন সাময়িকভাবে বন্ধ হয়।

নদী ভাঙনে হুমকিতে থাকা আনোয়ারা বেগম (৭০) বলেন, গত বৃহস্পতিবার যেভাবে যমুনা নদীতে ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে, এভাবে ভাঙতে থাকলে আমাদের বাঁধের বাড়িঘরও ভেঙে যাবে। এই শেষ সম্বলটুকু ভেঙে গেলে আমরা কোথায় গিয়ে থাকবো? আমরা সরকারের কাছে দ্রুত যমুনা নদীর কাজ চাই।

এব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী (নকশা) মাহফুজুর রহমান জানান, যমুনা নদী ভাঙন রোধে ভাঙন কবলিত এলাকায় স্থায়ী কাজ করতে একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা করা হয়েছে। প্রকল্প প্রস্তাবনার ভিত্তিতে স্টাডি চলছে। স্টাডির আলোকে প্রকল্প নকশা প্রনয়নের জন্য বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলায় নদী ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছি।
পরিদর্শন করে এলাকাবাসীর সুবিধার্থে বগুড়া সারিয়াকান্দি এবং ধুনট উপজেলাকে নদী ভাঙন থেকে রক্ষা করতে একটি বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কাজ চলমান রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে যমুনা নদীর ভাঙন থেকে বগুড়াবাসী রক্ষা পাবে। তবে ভাঙন কবলিত এলাকায় ইমার্জেন্সি কাজ চালু করা হয়েছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

সর্বাধিক পঠিত

কয়েক ঘন্টায় ৫ বিঘা কৃষিজমি যমুনার গর্ভে বিলীন, হুমকির মুখে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ

Update Time : 04:39:36 am, Sunday, 24 August 2025

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা ভারি বর্ষণে বগুড়ার সারিয়াকান্দি গোদাখালি গ্রামে যমুনা নদীর ভাঙনে রুদ্রমূর্তি ধারণ করেছে। সেখানে প্রায় ১ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। কয়েকদিনে এই এলাকায় কৃষকদের ৩ ফসলি কৃষিজমি যমুনায় বিলীন হয়েছে। যমুনার গর্ভে বিলীন হওয়ার জমিতে ধান,
পাট মরিচসহ নানা ধরনের ফসল চাষ হতো। এলাকাবাসী জানান, গত বৃহস্পতিবার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই প্রায় ৫ বিঘা কৃষিজমি যমুনায় বিলীন হয়েছে। যমুনা নদীর থেকে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধের দূরত্ব মাত্র ২০০ মিটার।
স্থানীয়দের মতে, এভাবে ভাঙন অব্যাহত থাকলে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ যেকোনও সময়ে ভেঙে গিয়ে ৪ ইউনিয়নের লাখো মানুষ বন্যায় প্লাবিত হবেন। ফলে উপজেলার কামালপুর, ভেলাবাড়ী, চন্দনবাইশা এবং কুতুবপুর ইউনিয়নের লাখো এলাকাবাসী বন্যায় প্লাবিত হবে।
এছাড়া এসব ইউনিয়নের কৃষকদের সদ্য বেড়ে ওঠা আমন ধান পানিতে তলিয়ে যাবে যাবে।
তাই এলাকাবাসী দ্রুত নদী ভাঙন কবলিত এলাকায় জরুরি কাজ চায় । অপরদিকে সারিয়াকান্দির কামালপুর ইউনিয়নের গোদাখালি এবং ইছামারা গ্রামে আবারো যমুনা নদীর তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। যেখানে গত দুই বছর আগেও প্রায় ৭০ টি বসতবাড়ি কয়েক ঘন্টার মধ্যে যমুনা নদীতে বিলীন হয়েছিল। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে সেখানে নদী ভাঙন রোধে কাজ করা হয়, ফলে ভাঙন কবলিত এলাকায় নদী ভাঙন সাময়িকভাবে বন্ধ হয়।

নদী ভাঙনে হুমকিতে থাকা আনোয়ারা বেগম (৭০) বলেন, গত বৃহস্পতিবার যেভাবে যমুনা নদীতে ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে, এভাবে ভাঙতে থাকলে আমাদের বাঁধের বাড়িঘরও ভেঙে যাবে। এই শেষ সম্বলটুকু ভেঙে গেলে আমরা কোথায় গিয়ে থাকবো? আমরা সরকারের কাছে দ্রুত যমুনা নদীর কাজ চাই।

এব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী (নকশা) মাহফুজুর রহমান জানান, যমুনা নদী ভাঙন রোধে ভাঙন কবলিত এলাকায় স্থায়ী কাজ করতে একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা করা হয়েছে। প্রকল্প প্রস্তাবনার ভিত্তিতে স্টাডি চলছে। স্টাডির আলোকে প্রকল্প নকশা প্রনয়নের জন্য বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলায় নদী ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছি।
পরিদর্শন করে এলাকাবাসীর সুবিধার্থে বগুড়া সারিয়াকান্দি এবং ধুনট উপজেলাকে নদী ভাঙন থেকে রক্ষা করতে একটি বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কাজ চলমান রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে যমুনা নদীর ভাঙন থেকে বগুড়াবাসী রক্ষা পাবে। তবে ভাঙন কবলিত এলাকায় ইমার্জেন্সি কাজ চালু করা হয়েছে।