Dhaka 7:12 pm, Friday, 16 January 2026

মিত্রদের সম্মানজনক আসন ছাড় দেবে বিএনপি

  • Reporter Name
  • Update Time : 03:26:18 am, Thursday, 25 September 2025
  • 63 Time View

বিগত সাড়ে ১৫ বছর ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে থাকা মিত্রদের আসন ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। আসন বণ্টন বা সমঝোতার জন্য ইতোমধ্যে তাদের কাছে তালিকা চাওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা মিত্রদের নিয়ে নির্বাচনি জোট গঠনের ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক আলোচনাও শুরু করতে চায় বিএনপি। মঙ্গলবার রাতে গুলশানে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এ ছাড়া বৈঠকে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উদ্ধৃত করে অসত্য বক্তব্য নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে দলটির নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র বাংলাদেশ প্রতিদিনকে নিশ্চিত করেছেন। গুলশানে চেয়ারপারসন অফিসে রাত ৮টা ৪০ মিনিটে শুরু হয়ে ১১টা ১০ মিনিটে বৈঠক শেষ হয়। বৈঠকে ভার্চুয়ালি সভাপতিত্ব করেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (ভার্চুয়ালি), আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমদ (বীরবিক্রম) ও ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

সূত্র জানান, শিগগিরই মিত্রদের সঙ্গে আসন ছাড় ও জোট গঠনের ব্যাপারে আলোচনায় বসবে বিএনপি। মিত্ররা কোন আসনে কারা জয়ী হতে পারবে, তাদের যোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী কারা সেটাও বিবেচনায় রাখছে দলটি। পাশাপাশি ওই সব আসনে দলীয় যেসব প্রার্থী রয়েছেন তাদের ঐক্যবদ্ধভাবে মিত্রদের সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানানো হবে। মিত্রদের মধ্যে যাদের মনোনয়ন দেওয়া যাবে না তাদের অন্যভাবে মূল্যায়ন করার প্রতিশ্রুতি দেবে বিএনপি। আবার কেউ কেউ বয়সের কারণে সরাসরি নির্বাচনে অংশ নিতে চাইছেন না, তাদের অন্যভাবে সম্মানিত করা হবে।
স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য জানান, বৈঠকে তারেক রহমান নিজেই মির্জা ফখরুলের সাক্ষাৎকার প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন। বৈঠকে মির্জা ফখরুলও নিজের অবস্থান ব্যক্ত করেন। তবে ‘টুইস্ট’ এবং সংশ্লিষ্ট পত্রিকায় ভিন্নভাবে বক্তব্য প্রচারের বিষয়ে নিজের বক্তব্য বলেন। পরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গণমাধ্যমের দায়িত্বশীলতা নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। বিশেষ করে গণমাধ্যমকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার গুরুত্ব তার বক্তব্যে উঠে আসে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানান, বৈঠকে কেউ কেউ বলেছেন জামায়াতে ইসলামী মুখে বলছে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি ও পিআর পদ্ধতি ছাড়া তারা নির্বাচনে যাবে না। অথচ ৩০০ আসনে ইতোমধ্যে প্রার্থী ঘোষণা দিয়েছে দলটি। আগেভাগেও নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে। জামায়াত কট্টর ডানপন্থি দল ও তাদের রেজিম ফোর্স রয়েছে। তার বিপরীতে বিএনপি উদার গণতান্ত্রিক দল। প্রতিটি আসনে জামায়াত একক প্রার্থী চূড়ান্ত করলেও কোনো সমস্যা নেই। কারণ তাদের জনপ্রিয় প্রার্থী নেই বললেই চলে। কিন্তু বিএনপির প্রতিটি আসনে তিন-চার জন করে মনোনয়নপ্রত্যাশী ও এলাকায় জনপ্রিয়। তাই সব আসনে তফসিলের আগেই প্রার্থী ঘোষণা দেওয়া সম্ভব নয়। এতে অনেক আসনে বিভেদ-দ্বন্দ্ব-গ্রুপিং বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন কেউ কেউ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

সর্বাধিক পঠিত

মিত্রদের সম্মানজনক আসন ছাড় দেবে বিএনপি

Update Time : 03:26:18 am, Thursday, 25 September 2025

বিগত সাড়ে ১৫ বছর ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে থাকা মিত্রদের আসন ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। আসন বণ্টন বা সমঝোতার জন্য ইতোমধ্যে তাদের কাছে তালিকা চাওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা মিত্রদের নিয়ে নির্বাচনি জোট গঠনের ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক আলোচনাও শুরু করতে চায় বিএনপি। মঙ্গলবার রাতে গুলশানে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এ ছাড়া বৈঠকে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উদ্ধৃত করে অসত্য বক্তব্য নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে দলটির নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র বাংলাদেশ প্রতিদিনকে নিশ্চিত করেছেন। গুলশানে চেয়ারপারসন অফিসে রাত ৮টা ৪০ মিনিটে শুরু হয়ে ১১টা ১০ মিনিটে বৈঠক শেষ হয়। বৈঠকে ভার্চুয়ালি সভাপতিত্ব করেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (ভার্চুয়ালি), আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমদ (বীরবিক্রম) ও ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

সূত্র জানান, শিগগিরই মিত্রদের সঙ্গে আসন ছাড় ও জোট গঠনের ব্যাপারে আলোচনায় বসবে বিএনপি। মিত্ররা কোন আসনে কারা জয়ী হতে পারবে, তাদের যোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী কারা সেটাও বিবেচনায় রাখছে দলটি। পাশাপাশি ওই সব আসনে দলীয় যেসব প্রার্থী রয়েছেন তাদের ঐক্যবদ্ধভাবে মিত্রদের সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানানো হবে। মিত্রদের মধ্যে যাদের মনোনয়ন দেওয়া যাবে না তাদের অন্যভাবে মূল্যায়ন করার প্রতিশ্রুতি দেবে বিএনপি। আবার কেউ কেউ বয়সের কারণে সরাসরি নির্বাচনে অংশ নিতে চাইছেন না, তাদের অন্যভাবে সম্মানিত করা হবে।
স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য জানান, বৈঠকে তারেক রহমান নিজেই মির্জা ফখরুলের সাক্ষাৎকার প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন। বৈঠকে মির্জা ফখরুলও নিজের অবস্থান ব্যক্ত করেন। তবে ‘টুইস্ট’ এবং সংশ্লিষ্ট পত্রিকায় ভিন্নভাবে বক্তব্য প্রচারের বিষয়ে নিজের বক্তব্য বলেন। পরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গণমাধ্যমের দায়িত্বশীলতা নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। বিশেষ করে গণমাধ্যমকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার গুরুত্ব তার বক্তব্যে উঠে আসে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানান, বৈঠকে কেউ কেউ বলেছেন জামায়াতে ইসলামী মুখে বলছে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি ও পিআর পদ্ধতি ছাড়া তারা নির্বাচনে যাবে না। অথচ ৩০০ আসনে ইতোমধ্যে প্রার্থী ঘোষণা দিয়েছে দলটি। আগেভাগেও নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে। জামায়াত কট্টর ডানপন্থি দল ও তাদের রেজিম ফোর্স রয়েছে। তার বিপরীতে বিএনপি উদার গণতান্ত্রিক দল। প্রতিটি আসনে জামায়াত একক প্রার্থী চূড়ান্ত করলেও কোনো সমস্যা নেই। কারণ তাদের জনপ্রিয় প্রার্থী নেই বললেই চলে। কিন্তু বিএনপির প্রতিটি আসনে তিন-চার জন করে মনোনয়নপ্রত্যাশী ও এলাকায় জনপ্রিয়। তাই সব আসনে তফসিলের আগেই প্রার্থী ঘোষণা দেওয়া সম্ভব নয়। এতে অনেক আসনে বিভেদ-দ্বন্দ্ব-গ্রুপিং বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন কেউ কেউ।